আগামী ৬ থেকে ১৮ নভেম্বর মিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন বা কপ২৭। এই সম্মেলন সামনে রেখে ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির দাবির মধ্যে রয়েছে- উন্নত দেশগুলোকে ২০২০-২০২৫ মেয়াদের প্রতিশ্রুত ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিতরণে রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। জলবায়ু তহবিলে ঋণ নয়, অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা অনুদান হিসেবে দিতে হবে। ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক আলাদা তহবিল গঠন করতে হবে এবং ঝুঁকি বিনিময়ে বীমার পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক অর্থ দিতে হবে।

জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের করণীয় তুলে ধরেছে টিআইবি। সংস্থাটির বক্তব্য, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর প্রাধান্য অব্যাহত রাখতে হবে। জীবন-জীবিকা, বন ও পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে স্থগিত করতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ কৌশলগত পরিবেশের প্রভাব নিরূপণ করে অগ্রসর হতে হবে। একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপসহ প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টার প্ল্যানকে (আইইপিএমপি), বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে এ খাতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সময় আবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করার দাবিও জানিয়েছে টিআইবি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত সব প্রকল্পে সুশাসন, শুদ্ধাচার ও বিশেষ করে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, এ বছর জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর উচিত হবে, প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রদেয় অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহে রোডম্যাপ ঘোষণায় উন্নত দেশগুলোকে রাজি করানো।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর জলবায়ু অর্থায়ন হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে উন্নত দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমিয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত। গত দুই বছরে তারা মাত্র ৮৩.৩ বিলিয়ন দিয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল। তাদের বাধার কারণে ২০২১ সালের জলবায়ু সম্মেলনে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আলাদা তহবিল গঠন করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে তারা সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত দেওয়া মোট বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ৭০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। জিসিএফ তহবিল (গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড) প্রাপ্তিতে কঠিন মানদণ্ড নির্ধারণ করায় প্রয়োজনীয় জলবায়ু তহবিল পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি মনে করেন, তাপমাত্রা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধির ফলে ২০০৯ সালে প্রতিশ্রুত প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার এখন আর পর্যাপ্ত নয়। কেননা, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু তহবিলের চাহিদা প্রতি বছর ১৪০ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার হবে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ক্রমবর্ধমান অভিযোজন ও প্রশমন চাহিদা মেটানোর জন্য অর্থায়নের নতুন সম্মিলিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণও জরুরি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।