জাতীয় সংবিধান দিবস আজ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানের খসড়া সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। দিনটি এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। গত ৩১ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবছরের ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জাতীয় সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাস ও সংবিধানের চেতনা ধারণের জন্য জাতীয় সংবিধান দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দিবসটি উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। এ ছাড়া দিবসটি পালনের জন্য সুপ্রিম কোর্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ জারি করেন। পরে ২৩ মার্চ রাষ্ট্রপতি গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা গণপরিষদের সদস্য বলে বিবেচিত হন। গণপরিষদের সদস্য ছিলেন ৪৩০ জন। গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল। তখন গণপরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ছিলেন না। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব অনুযায়ী গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্য মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ সভাপতির আসন গ্রহণ করে প্রথমে নিজেই নিজের শপথবাক্য পাঠ করেন এবং পরবর্তী সময়ে পরিষদের অন্য সদস্যদের শপথ পাঠ করান। পরদিন ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে প্রধান করে গঠিত হয় সংবিধান প্রণয়ন কমিটি। কমিটির সদস্য ছিলেন ৩৪ জন।

কর্মসূচি: আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে আজ বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামসহ বিশিষ্টজনের থাকার কথা রয়েছে।

দিবসটি পালনের জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় সেমিনারের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)। ধানমন্ডির বিলিয়া অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন উপস্থিত থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম।