ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পরাজয় মানতে পারছেন না আমলাব ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে অপমান করা হয়েছে। পরাজিত প্রার্থী আজাদ ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় নেমেছে শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে তারা। খবর পেয়ে আশপাশের এলাকা থেকে অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসী ছুটে গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগে বেলাব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রাজারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম খান।

রাজারবাগ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক শাহিন সরদার ও মো. শফিউল্লাহকে অপমান করার অভিযোগে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহিনুর আক্তার।

জানা গেছে, গত ৩০ অক্টোবর রাজারবাগ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হয়। এতে আওয়ামী লীগের আনোয়ার সাদত ও বিএনপির পক্ষ থেকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল আজাদ আলাদা আলাদা প্যানেল দেন। নির্বাচনে আনোয়ার সাদতের প্যানেলের চার সদস্য ও আবুল কালাম আজাদের প্যানেলের এক সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২ নভেম্বর ইউএনও কার্যালয়ের হল রুমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন হয়। এতে ১০ ভোটের মধ্যে আট ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ার সাদত। এরপর থেকেই পরাজিত প্রার্থী আজাদ ও তাঁর সমর্থকরা বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে শিক্ষকদের অপমান ও অপদস্ত করছেন।

অভিভাবকরা জানান, নির্বাচনের পর বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় একটি পক্ষ। তাদের ভয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের। এ রকম অবস্থা থাকলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিতে হবে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহিনুর আক্তার বলেন, 'নির্বাচনে হেরে দুই শিক্ষককে অপদস্থ করেছেন আবুল কালাম আজাদ। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে আজকে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।'

হুমকির শিকার প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম খান বলেন, 'নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আমার আত্মীয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে আমাকে আবুল কালাম আজাদ গালাগালসহ হত্যার হুমকি দিয়েছেন।'

উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে অপমান ও লাঞ্ছিত করার বিষয় মানা যায় না। ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিচার চান তিনি।

অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, যা শুনেছেন সব মিথ্যা ও বানোয়াট। নাটক সাজিয়ে ছোট শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া ও পরীক্ষা স্থগিত করা একটি পক্ষের গভীর ষড়যন্ত্র।

শিক্ষককে অপমানের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রাজারবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুরুজ মিয়া।

বেলাব'র ইউএনও আয়শা জান্নাত তাহেরা বলেন, 'খবর পেয়ে ওসিকে ফোন করে জানিয়েছি। ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যালয়ে গিয়ে জানব আসলে  ঘটনা কী?'