বাংলাদেশি নাবিকদের ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড কেনার অনুমতি পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ)। একই সঙ্গে তাদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, পুরোপুরি অযৌক্তিকভাবে রেমিট্যান্স উপার্জনকারী ‘ওয়েজ আরনার্স’ মেরিনারদের প্রাপ্ত এ সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ১৮ হাজার নাবিক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর রাষ্ট্র হারাচ্ছে এক বিশাল রেমিট্যান্স।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের আলী ভবনে ‘বাংলাদেশি নাবিকদের ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের সুবিধা পুনর্বহাল করলে বাড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান।

সংগঠনের সহ-সভাপতি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, মেরিনাররা শুরু থেকেই এ বন্ড কিনতে পারতেন। সব রেমিট্যান্স আর্নাররা এমনকি বাংলাদেশ সরকারের বেতনভুক্ত বিদেশি মিশনের কর্মকর্তারাও এ বন্ড কিনতে পারছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, পুরোপুরি অযৌক্তিকভাবে রেমিট্যান্স উপার্জনকারী ‘ওয়েজ আরনার্স’ মেরিনারদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখের, কষ্টের ও লজ্জার।

তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ মেরিনাররা চুক্তিভিত্তিক জাহাজে চাকরি করেন। তাদের কোনো গ্র্যাচুরিটি বা পেনশন সুবিধা নেই। ‘ওয়েজ আরনার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড’ তাদের অবসরকালীন চলার উপায় মাত্র। তাই বাংলাদেশি মেরিনারদের ‘ওয়েজ আরনার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড’ কেনার অনুমতি পুনর্বহালসহ প্রাপ্য সুবিধাগুলো উপভোগ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

সংগঠনের এই নেতা ওয়েজ আরনার্স ডেভলপমেন্ট বাংলাদেশ রুলস ১৯৮১ (সংশোধিত ২০১৫)-এর বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে বলেন,  দেশের বাইরে অবস্থান করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী মেরিনারেরা এই বন্ড কেনার যোগ্য দাবিদার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মো. আনাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি ক্যাপ্টেন গোলাম মহিউদ্দিন কাদরি, এসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি চীফ ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম জিলানি, কোষাধ্যক্ষ মো. আলী হোসাইন, কার্যকরী পরিষদের সদস্য চীফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবু সাইদ।