গেল ২০২১-২২ অর্থবছর বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৭৪ ভাগ পেয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ। এর বিপরীতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পেয়েছে ২৫টি জেলা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সুষম উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দে সাম্য ও নাগরিক সুবিধাদির বিকেন্দ্রীকরণের তাগিদ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) উদ্যোগে 'উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণে বাংলাদেশের সুষম ও টেকসই নগরায়ণ: প্রেক্ষিত ও করণীয়' শীর্ষক ভার্চুয়াল নগর সংলাপে এসব অভিমত দেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'বাজেট বরাদ্দে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চল এখনও তুলনামূলক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এমনকি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক জোন তৈরির ক্ষেত্রেও ওইসব এলাকায় বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সামনের দিনগুলোতে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও উন্নয়ন কেন্দ্রীভূত হয়ে বাই-পোলার ইকোনমি (অর্থনীতির মেরুকরণ) তৈরি হতে পারে। সুষম নগরায়ণের স্বার্থেই পিছিয়ে পড়া রংপুর, বরিশাল, রাজশাহী অঞ্চলে বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করা দরকার।'

নগর সংলাপে আইপিডির তত্ত্বাবধানে পরিকল্পনাবিদ রিদওয়ানুর রহমান একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাজেট বরাদ্দে আবাসন ও নাগরিক সুবিধাদি খাতে ঢাকা জেলা ৩৭ ভাগ ও চট্টগ্রাম জেলা বরাদ্দ পেয়েছে ১৭ ভাগ। সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ছয়টি জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা ও নারায়ণগঞ্জ পেয়েছে ৭৪ ভাগ বরাদ্দ। বিপরীতে সর্বনিম্ন বরাদ্দ পেয়েছে ২৫টি জেলা।

বক্তারা নগরায়ণের প্রকৃত সুফল পেতে হলে সরকারের 'আমার গ্রাম আমার শহর' প্রকল্প, উপজেলা মাস্টার প্ল্যানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ জনবল তৈরির পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে জনসংখ্যার পরিকল্পিত পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার বলেও মত দেন তাঁরা।

সংলাপে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ, আরিফুল ইসলাম, ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, ড. রাশেদুল হাসান উদয় প্রমুখ।