আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প প্রস্তাব পাস না হলে সংসদের ভোটে দেড়শ আসনে এ যন্ত্র ব্যবহার সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মধ্য জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহের অর্ডার দিতে হবে। এলসি খুলতে হবে। মালপত্র দেশে এসে পৌঁছাতে হবে। যন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে পাঠাতে হবে। অনেক বিষয় রয়েছে।

বর্তমানে ইসির হাতে থাকা ইভিএম দিয়ে ৭০ থেকে ৭৫টি আসনে ভোট গ্রহণ সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, এই যন্ত্রগুলো সংসদের ভোটে ব্যবহার করা হবে।

গত ১৯ অক্টোবর 'নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দেড়শ আসনে ইভিএমে ভোট করার লক্ষ্যে প্রায় দুই লাখ ইভিএম কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন থেকে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে প্রস্তাবটি ফের ইসিতে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আলমগীর জানান, পরিকল্পনা কমিশনের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে তিনি এখনও অবগত হননি। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বিস্তারিত বলতে পারবেন। তাঁর কাছ থেকে কমিশন সদস্যরা অবহিত হওয়ার পরেই বৈঠকে বসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো পরামর্শ এলে অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সর্বোচ্চ দেড়শ আসনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়ে এই কমিশনার বলেন, অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। পরিকল্পনা কমিশন বা অর্থ মন্ত্রণালয় কত টাকা দিতে পারবে তার ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে।

বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কথা উল্লেখ করে ইসি আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ এই সংকটের বাইরে নয়। ইভিএমের অধিকাংশ ব্যয়ই বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থের অপচয় যাতে না হয়; সম্পদের অপচয় যাতে না হয়; এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইভিএমের প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর পরেই তাঁরা অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। গত এক থেকে দুই মাসে পরিস্থিতি অনেকটা জটিল ধারণ করেছে।

বাজেট কমাতে হলে কী করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, সমন্বয় করতে হবে। হাতে থাকা দেড় লাখ ইভিএম সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এর পরে যদি দেখা যায় আরও কিছু ইভিএম কেনা সম্ভব- সেটা কেনা হবে। যদি না হয় তাহলে কেনা হবে না।