দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ৭৩৭ সৈনিকের সমাধিস্থল কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে (ময়নামতি কমনওয়েলথ যুদ্ধসমাধি) শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সাতটি দেশের কূটনীতিকরা।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসনের নেতৃত্বে এ স্মরণসভায় মিলিত হন তাঁরা।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বাইবেল পাঠের পর ফাদার ক্যাট্টিক প্রার্থনা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনারের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার, কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস্‌, জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাউকি, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার কামার আব্বাস খোখার, ভারতের প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার এম এস সাবারওয়াল ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রতিনিধি।

প্রার্থনা পর্ব শেষে সমাধিক্ষেত্রের হলি ক্রসে বাংলাদেশের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রাব্বী আহসান, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিউলি রহমান তিন্নী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আফজাল হোসেন। এর আগে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

পরে কূটনীতিকরা ময়নামতির যুদ্ধসমাধির হলি ক্রস পাদদেশে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলির মধ্য দিয়ে নিহত সৈনিকদের স্মরণ করেন। তাঁরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।

ময়নামতি সেনানিবাসের উত্তর প্রান্তে বুড়িচং উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ছায়াঘেরা নৈসর্গিক শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এ সমাধিক্ষেত্রে ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের সমাহিত করা হয়। এর মধ্যে মুসলিম ১৭২ জন, বৌদ্ধ ধর্মের ২৪ জন, হিন্দু দু'জন এবং বাকিরা খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। তাঁদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ৩৫৭ জনসহ কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অবিভক্ত ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সৈনিকের সমাধি রয়েছে। কমনওয়েলথ গ্রেভ ইয়ার্ড কমিশন এ যুদ্ধসমাধি ক্ষেত্র তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।