প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, চলতি বছর অধস্তন আদালতের বিচারকাজ পর্যবেক্ষণে কমিটি গঠনের পর বর্তমানে মামলা দায়েরের চেয়ে নিষ্পত্তির হার বেড়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা ছয়টি কোর্ট প্রযুক্তির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য দেন।

প্রযুক্তি ছয়টি হচ্ছে- সুপ্রিম কোর্ট মোবাইল অ্যাপ, মনিটরিং কমিটির অনলাইন রিপোর্টিং টুলস, আপিল বিভাগের ডিজিটাল অনুলিপি শাখা, আপিল বিভাগে প্রবেশ পাস, অনলাইনে অধস্তন আদালতের রায় ও আদেশ প্রকাশ এবং শিশু আদালতের রিপোর্ট এন্ট্রি পল্গ্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল গোলাম রব্বানী। এতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মমতাজউদ্দিন ফকির, সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতির দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৫টি দেওয়ানি মামলা হলেও নতুন এবং পুরোনো মামলা মিলিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৯৯টি। নিষ্পত্তির হার ১০২ ভাগ। তবে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির হার শতভাগের নিচে। এই সময়ে অধস্তন আদালতগুলোতে ফৌজদারি মামলা হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪৯টি। ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির হার ৯৫ ভাগ।

উচ্চ আদালতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৬৪ হাজার ৬৪১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৫০ হাজার ৯১০টি। নিষ্পত্তির হার ৭৯ ভাগ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আগামী দিনের বিচারব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হলো স্বল্প সময় ও খরচে বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। সেজন্য বিচারব্যবস্থাকে একটি তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি যুগোপযোগী ও গতিশীল বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমাদের সংকল্পবদ্ধ হতে হবে।