দাদার হাত ধরে মঙ্গলবার মক্তবের উদ্দেশে বের হয় পাঁচ বছরের মোছা. আয়াত। নাতনিকে মসজিদের উদ্দেশে পাঠিয়ে দোকানে যান দাদা। এরপর থেকেই নিখোঁজ শিশুটি। একমাত্র সন্তানের খোঁজে দিশেহারা মা-বাবা। তবে পাঁচ দিনেও আয়াতের হদিস দিতে পারেনি পুলিশ। আয়াত চট্টগ্রাম ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর বন্দরটিলা নয়ারহাট ওয়াজ মুন্সীর নতুন বাড়ির সোহেল রানার মেয়ে।

শিশুটির দাদা মনজুর হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পাশের মসজিদের মক্তবে যেতে বাড়ি থেকে বের হয় আয়াত। মসজিদের উদ্দেশে তাকে মাঝপথ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে দোকানে যান তিনি। কিছু সময় পর আসর নামাজ পড়তে মসজিদে যান। নামাজ শেষে আয়াতকে না দেখে সহপাঠীদের জিজ্ঞেস করলে তারা আয়াত আসেনি বলে দাদাকে জানায়। বাসায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় সন্ধান করে না পেয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।
মনজুর হোসেন বলেন, 'আয়াত যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন পুলিশ পরিচয়ে তাকে পাওয়া গেছে জানিয়ে একটি নম্বর থেকে ফোন করে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা টাকা দিতে নিষেধ করে। পুলিশ এখনও আমার নাতনির কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। বৃহস্পতিবার আবারও ওই নম্বর থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছে। নাতনিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।'
এদিকে সন্তানকে না পেয়ে নাওয়া-খাওয়া ছেড়েছেন বাবা সোহেল রানা ও মা তামান্না খাতুন। তাঁরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, থানা-পুলিশ ও হাসপাতাল ঘুরছেন। এলাকায় মাইকিং ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। আয়াতের সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে পরিবার।
ইপিজেড থানার ওসি আব্দুল করিম জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে শিশুটি নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত তার বিষয়ে উল্লেখ করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশুটির সন্ধান করা হচ্ছে।