নদীর মাধ্যমে দূষিত হচ্ছে বঙ্গোপসাগর। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশের নদীতে এসে তা মিশে যাচ্ছে সাগরে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে দেশের ১৮টি আন্তঃসীমান্ত নদীতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ৩৪৫ টন একবার ব্যবহারযোগ্য পল্গাস্টিক প্রবেশ করে।

এর মধ্যে ২ হাজার ৫১৯ টন প্লাস্টিক ভারত থেকে এবং ২৮৪ টন মিয়ানমার থেকে আসে। বছরে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন টন পল্গাস্টিক বর্জ্য বঙ্গোপসাগরের পানিতে জমা হয়।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। পল্গাস্টিক সল্যুশনস ফান্ড এবং গেল্গাবাল অ্যালাসেন্স ফর ইনসিনেরেশন অল্টারনেটিভসের (গায়) সহযোগিতায় এসডো গবেষণাটি পরিচালনা করে।

বিপজ্জনক পল্গাস্টিক বর্জ্যের আন্তঃসীমান্ত চলাচল কমাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে সরকার ও নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে পরামর্শ করার উদ্দেশ্যে এ গবেষণা করা হয়।

গবেষক দলের প্রধান ড. শাহরিয়ার হোসেন জানান, ভারত ও মিয়ানমার থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য মহানন্দা, ডাহুক, করতোয়া, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা, কুশিয়ারা, গঙ্গা, ইছামতি, কালিন্দি নদী এবং ব্রহ্মপুত্র ও নাফ নদে এসে পড়ছে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৭ হাজার ২০ জন এই জরিপে অংশ নেন। আন্তঃসীমান্ত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার নদী থেকে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ ধরনের পল্গাস্টিক বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

কোমল পানীয়ের বোতল থেকে শুরু করে থালা, কসমেটিকসের মোড়ক ও নিত্য ব্যবহার্য থালা ও জগ সবই রয়েছে তালিকায়। এসব প্লাস্টিক ব্যবহার করার পর তা বিভিন্ন জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে।

ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, আমাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জনগণ। পল্গাস্টিক কীভাবে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশের নদনদীকে দূষণ করছে এবং এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে কাজ হচ্ছে। তথ্য ব্যবহার করে সচেতনতা তৈরিই এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো হুমকির মুখে। একবার ব্যবহারযোগ্য পল্গাস্টিক ভয়াবহ, যা কখনোই পচে না। এ প্লাস্টিক নদীগুলো ধ্বংসের জন্য দায়ী। সরকার অবশ্যই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক বলেন, যেসব দেশ থেকে পল্গাস্টিক ভেসে আসছে, সঠিক সমাধান পেতে সেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ সমকালকে বলেন, এটা এককভাবে বাংলাদেশের সমস্যা না। আমরা পল্গাস্টিক পণ্যের উৎপাদকদেরই এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছি। আন্তর্জাতিকভাবেও এটি একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে উঠছে। বাংলাদেশ সেই আন্দোলনেও আছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ওশান পলিসি অ্যান্ড ইকোনমির পরিচালক ড. স্টিভ ফ্লেচার, এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা, এনভায়রনমেন্টাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির জলবায়ু ও মহাসাগর অভিযানবিষয়ক প্রকল্প কর্মকর্তা জ্যাকব কিন-হ্যামারসন ও এসডোর সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা হূদিতা ফেরদৌস।