বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়তেই খুচরা অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) হাজির হলো বিতরণ কোম্পানি। গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রথম প্রস্তাব দিল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। খুলনা বরিশালসহ দক্ষিণ পশ্চিমের ২১ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম ‌গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে জমা দেওয়া আবেদনে ২০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত পাইকারি দাম বাড়াতে খুচরা বিদ্যুৎ বিক্রির প্রভাব বিবেচনা করে এই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গত শনিবার (১৯ নভেম্বর) তারা আবেদনটি করেছেন। তবে কমিশনের সদস্য আবু ফারুক এখনও প্রস্তাবটি বিইআরসিতে পৌঁছায়নি বলে জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মঙ্গলবার খবর নিয়ে তিনি বলতে পারবেন।

জানতে চাইলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ‘আমরা এখনও আবেদন করিনি। কিন্তু আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনও আমার অফিসে এ বিষয়ে কাজ চলছে।’ 

পাইকারি বা বাল্ক রেটে বিদ্যুৎ কেনে বিতরণ কোম্পানিগুলো। সোমবার বিদ্যুতের যে দাম বেড়েছে এর কোনো প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ে না পড়লেও বিতরণ কোম্পানিগুলো এতে লোকসান করবে। বিতরণ কোম্পানি তাদের লোকসান পোষাতে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির আবেদন করে। এই আবেদনের ওপর শুনানি করে কমিশন গ্রাহক পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে দেয়। গ্রাহক পর্যায়ে কমিশন দাম নির্ধারণ করার আগ পর্যন্ত বিতরণ কোম্পানিগুলো বিদ্যুতের বাল্ক মূল্যবৃদ্ধির জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারে না।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ছাড়াও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকাতে ডেসকো, ডিপিডিসি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ওজোপাডিকো এবং উত্তরাঞ্চলে নেসকো বিদ্যুৎ বিতরণ করে থাকে।

সোমবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯.৯২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৫ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বেড়ে ৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়।