'গুমের শিকার' সাতক্ষীরার হোমিও চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান জনি এবং যশোরের বেনাপোলের কলেজছাত্র রেজোয়ান হোসেনকে ফেরত পেতে সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছে স্বজনরা। তাঁরা জানান, যার সন্তান গুম হয়, শুধু সেই বোঝে সন্তান হারানোর কী বেদনা। প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী হওয়ায় তিনি নারীদের ব্যথা অনুভব করতে পারবেন। এ জন্য তিনি অবিলম্বে তাদের গুম হওয়া সন্তান-স্বজনকে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দেবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে শুক্রবার খুলনায় মানববন্ধন ও শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে এ দাবি জানান তাঁরা। নগরীর জাতিসংঘ পার্কের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন 'মায়ের ডাক' এবং মানবাধিকার সংগঠন 'হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক'। মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মুহাম্মদ নুরুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন।

নিখোঁজ রেজোয়ানের বৃদ্ধা মা সেলিনা বেগম বলেন, তার ছেলেকে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট বেনাপোল থানা পুলিশ আটক করে। পরে ওসি অপূর্ব হাসানের নেতৃত্বে তাকে গুম করা হয়। এ ঘটনায় তাঁরা ভয়ে মামলা করার সাহস পাননি। ছয় বছরেও সন্তানের সন্ধান না পেয়ে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সাতক্ষীরার হোমিও চিকিৎসক জনির বাবা আব্দুর রাশেদ ও বোন রাহিমা সুলতানা নিশি জানান, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই হিমেলের নেতৃত্বে পুলিশ জনিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর প্রায় ৭ বছরেও তার সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ। ছেলে ও ভাইকে হারিয়ে তাদের সংসার তছনছ হয়ে গেছে। জনির মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কঠোর শাস্তি এবং জনিকে ফিরিয়ে দিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন নারীনেত্রী রেহানা ঈসা, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা জেলা সমন্বয়কারী মোমিনুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচার জেলা সভাপতি এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছায়াবৃক্ষের প্রধান নির্বাহী মাহবুব আলম বাদশা, নারীনেত্রী ইসমত আরা কাকন। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সাংবাদিক কে এম জিয়াউস সাদাত।