ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান, প্রফিডেন্ট ফান্ড ও কল্যাণ তহবিল চালু, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক বা তার পরিবারকে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, ভারতীয় ল্যান্ডিং পাশের ব্যবস্থা, নৌপথে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে নৌযান শ্রমিকরা। নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে রোববার ভোর থেকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা এ কর্মবিরতি শুরু করেন।

এতে আশুগঞ্জ ও ভৈরব নৌবন্দরে আটকা পড়েছে অর্ধশতাধিক বিভিন্ন পণ্যবাহী নৌযান, বন্ধ রয়েছে পণ্য লোডিং আনলোডিং। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নৌযান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এদিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে নৌযান মালিক নেতৃবৃন্দ। 

নৌযান শ্রমিকেরা জানায়, ২০১৬ সালে ৫ বছরের জন্য ঘোষিত মজুরি কাঠামোর মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে নিত্যপণ্যের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নৌযান শ্রমিকদেও নুন্যতম মজুরি মাত্র ৯ হাজার টাকা, যা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এদিকে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র-সার্ভিস বুক প্রদান, কন্টিবিউটরি প্রফিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠনের বিষয়ে ২০১৯ সালে ত্রিপক্ষীয় (সরকার-মালিক-শ্রমিক) সিদ্ধান্ত এখনও বাস্তবায়ন হযনি। ভারতীয় সীমানায় ল্যান্ডিং পাশের অভাবে নৌ-শ্রমিকদেও সেখানে বন্দি জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে গত ৫ বছরে সেখানে ২০ জনের বেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। 

তাছাড়া প্রায়শ নৌ-শ্রমিকের নৌপথে চাদাঁবাজি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকেরা বার বার সরকার ও জাহাজ মালিকদের কাছে এসব দাবি ও সমস্যার কথা জানালেও আশ্বাস ও কালক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু মেলেনি। চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিকেরা ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিলে সরকার ও মালিকপক্ষ তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। কিন্ত দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারের উদ্যোগ ও মালিকপক্ষের কালক্ষেপণে তাও বাস্তবায়িত হয়নি। তাই নৌযান শ্রমিকেরা ১০ দফা দাবি আদায়ে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছে। নৌযান শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এ,কে,এম হাবিবুল্লাহ বাহার সমকালকে বলেন, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র ও ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস না থাকায় নৌযান শ্রমিকরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকদের যে, বেতন দেয়া হয় তা অনেক কম। শ্রমিকরা পরিবারের ব্যয় পরিচালনা করতে পারছে না। তাই শ্রমিকেরা কর্মরিতিতে যেতে বাধ্য হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ কার্গো জাহাজ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হাজী মো. নাজমুল হোসাইন হামদু নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে সমকালকে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।