পাবনার ঈশ্বরদীতে মাত্র ২৫ হাজার টাকা ঋণ খেলাপির মামলায় আরও ২৫ কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিজ্ঞ আদালত। রোববার দুপুরে তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। এর আগে সকালে জেলে যাওয়া ১২ কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত।  এ নিয়ে ওই মামলার ৩৭ আসামিই জামিন পেলেন।

রোববার পাবনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শামসুজ্জামান এসব জামিন আদেশ দেন।

জামিন পাওয়া কৃষকরা হলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক, মনি মণ্ডলের ছেলে মাহাতাব মণ্ডল, মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে আবদুল গণি মণ্ডল, কামাল প্রামাণিকের ছেলে শামীম হোসেন, মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে সামাদ প্রামাণিক, মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে নূর বক্স, রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আকরাম, লালু খাঁর ছেলে রজব আলী, মৃত কোরবান আলীর ছেলে কিতাব আলী, হারেজ মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া, মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মজনু ও মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান ছাড়াও গ্রেপ্তারি পরওয়ানাভূক্ত আরো ২৫জন কৃষক। এই ২৫ জনকেও একই আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়।

কৃষকদের আইনজীবী সাইদুর রহমান সুমন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে তাদের জামিনের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৬ ও ১৭ সালে ঈশ্বরদীর প্রান্তিক কৃষকদের নামে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পাবনা শাখা থেকে ঋণ দেওয়া হয়। ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেন আদালত। ঈশ্বরদী থানার পুলিশ গত শুক্রবার ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। এ নিয়ে সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার জানান, ঈশ্বরদীতে মোট ৩৭ জন কৃষকের নামে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করা হয়। সে অনুযায়ী গত শুক্রবার ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করার পর আরও ২৫ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু তার আগেই রোববার পাবনা আদালত তাদের আগাম জামিন দিয়েছে।  ফলে তাদের আর এখন গ্রেপ্তার করা হবে না।