ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের এমকে ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা বালু ব্যবসায়ী মো. কাউছার খান (৪১) খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করতে গিয়ে কিশোর সাফাওত ইসলাম সিফাতের হাতে খুন হন তিনি।

সিফাত পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার বাবা শাহিন মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বাড়ি সদর ইউনিয়নের বিএস ডাঙ্গী গ্রামে।

রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান।

এর আগে শনিবার সকালে চর হরিরামপুর ইউনিয়নের জাকেরের শুরা এলাকায় বালুর স্তূপের কাছ থেকে কাউছারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি এমকে ডাঙ্গী গ্রামের মৃত জালাল খানের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, সন্দেহভাজন সিফাত ও তার বাবাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সিফাত। পুলিশ তার কাছ থেকে কাউছারের মোবাইল ফোনের পোড়া অংশবিশেষ, জ্যাকেট, জামা-প্যান্ট ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সিফাত জানায়, কাউছার তার সঙ্গে সমকামিতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। এটি সিফাতের মোটেই পছন্দ ছিল না। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কাউছার ফোনে সিফাতকে ডেকে জাকেরের শুরা এলাকায় বালুর স্তূপের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সমকামিতায় বাধ্য করতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে কাউছার তার পকেট থেকে চাকু বের করে সিফাতকে ভয় দেখান।

এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চাকুর আঘাতে কাউছার মাটিতে পড়ে যান। পরে কাউছারের হাত থেকে সিফাত চাকু কেড়ে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। সিফাত কাউছারের পিঠ, গলা, ঘাড়ে চাকু দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

চরভদ্রাসন থানার ওসি মিন্টু মণ্ডল জানান, কাউছারের ভাই লিয়াকত খান চরভদ্রাসন থানায় হত্যা মামলা করেছেন। সিফাত ও তার বাবাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।