৩০ বছর পর চুয়াডাঙ্গায় সুনীল কুমার হত্যা মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মো. মাসুদ আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

এছাড়া এই মামলায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শীর্ষ চরমপন্থী নেতা লাল্টুসহ ১৮ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। চার জন আসামি বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে মারা গেছেন। এই মামলায় ১৩ জন আসামি পলাতক ছিল।

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে সুলতান আলি, দামুড়হুদা উপজেলার রায়লক্ষীপুর গ্রামের মৃত লুলু মন্ডলের দুই ছেলে শওকত ও লিয়াকত ওরফে ন্যাকো।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা রায়লক্ষীপুর গ্রামের সুনীল কুমার বাড়ির পাশে ৪ কাঠা জমি কেনেন। এ জমি একই গ্রামের নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু নিজের দাবি করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে এই জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ১৯৯৩ সালের ১০ ডিসেম্বর নরুল ইসলাম ওরফে নুরু তার ২৫-৩০ লোক নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আঘাত করে সুনীলকে। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অনীল কুমার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ বেশ কয়েক জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আলমডাঙ্গায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমডাঙ্গা থানার ওসি মতিয়ার রহমান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ১৯৯৭ সালে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।