আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন। তিনি কত টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তা দেশবাসী জানতে চায়।

শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ সম্মেলনে প্রধান অতিথিরি বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন বলেছেন সরকার না-কি দেশের বাইরে টাকা পাচার করেছে। বানরে সংগীত গায়, শীলা জলে ভাসে।

কাদের বলেন, কামাল হোসেন রাজনীতির রহস্য পুরুষ। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু যখন পকিস্তানিদের হাতে গ্রেপ্তার হন, তখন ইন্টারকন্টিনেটাল হোটেলের সামনে গাড়ি থেকে নেমে ড. কামাল হোটেলে ঢোকেন। এরপর তার আর খবর নেই। আমরা খবর পেলাম তিনি পাকিস্তান চলে গেছেন। তিনি পরে বঙ্গবন্ধুর দয়ায় সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, কামাল হোসেন অর্থপাচারের কথা বলেন। তিনিই তো কালো টাকা সাদা করেছেন। তিনি অর্থপাচার করেন, তারেকের নাম বলেন না। নিজে অর্থ পাচার করেন, তার ইহুদি জামাতার মাধ্যমে শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। ড. কামাল হোসেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আদালতে গিয়ে তারপর আদেশ নিয়ে ট্যাক্স জমা দিয়েছেন। তিনি এখন শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে বড় বড় কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে কাদের বলেন, পালাবে তারেক রহমানরা। আমরা তো জানতাম কামাল হোসেনের পকেটে সবসময় একটা ভিসা থাকে, যেটা সাংবাদিকরাও জানেন। দলের লোককেও না বলে হঠাৎ তিনি বিদেশে চলে যান। ওয়ান ইলেভেনে তিনি ড. ইউনূসের সঙ্গে মিলে কী করেছেন, সেটা বলতে খারাপ লাগে। সেদিন জরুরি সরকারের যোগসাজসে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে 'মাইনাস টু' ফর্মূলার মাধ্যমে সরকার গঠনের রঙিন খোয়াব দেখতেন। সেই খোয়াব উড়ে গেছে। আজ আবার তত্ত্বাবধায়কের নামে জরুরি সরকার আনতে চাইছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূত মাথা থেকে নামান। পরিষ্কার বলে দিতে চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির টাকা দুবাই থেকে আসে। বিএনপি নেতারা কোথায় কোথায় টাকা পাচার করেছেন সে খবর নেওয়া হচ্ছে। এখনও যদি কেউ টাকা পাচার করে থাকেন, সে খবরও নেওয়া হবে। টাকা পাচারকারী কেউ রেহাই পাবে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মতিঝিলে বিআরটিসির বাস পুড়িয়ে দিয়েছে। আগুনসন্ত্রাস শুরু হয়ে গেছে। তারা জানান দিচ্ছে, আবারও আগুনসন্ত্রাস শুরু করবে। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সারাদেশে সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

তিনি বলেন, খেলা হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও লুটপাটের বিরুদ্ধে। আমরা মারামারি, পাল্টাপাল্টি করবো না। তবে কেউ আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণ হবে কি-না তা সময় বলে দেবে। তবে আমাদের কর্মীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবে এটা মনে করবেন না। নেতাকর্মীদের বলে দিচ্ছি, প্রতিটি ওয়ার্ড, মহল্লা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সতর্ক পাহারায় থাকবেন। সারাদেশে গ্রামে, গ্রামে সতর্ক পাহারায় থাকবেন।

কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন ৬ তারিখে আনা হলো, তারা (বিএনপি) যাতে সোহরাওয়াদীতে সমাবেশ করতে পারে। কিন্তু সেটা তারা শুনবে না। তারা আইন মানবে না। বলেছি পরিবহন চলবে। তারপরও তারা কাঁথা, বালিশ, কম্বল ও মশার কয়েল নিয়ে পল্টন এলাকায় তাবু টানিয়েছেন। মির্জা ফখরুলের লোকজন বসে পড়েছে।

বিএনপির উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যদি আগুন নিয়ে আসেন, সন্ত্রাস করেন জনগণকে নিয়ে জবাব দেওয়া হবে। আমরা মামলা করবো। আপনারা জঙ্গিদের, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের মাঠে নামিয়েছেন- এ খবর আমরা রাখি না ভেবেছেন।

মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ।