নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা মজুরির দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এতে তারা এ দাবি জানান।

কাউন্সিল উদ্বোধন করেন রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহত শ্রমিক আঁখি আক্তারের মা পোশাক শ্রমিক নাসিমা বেগম।

কেন্দ্রীয় সভাপ্রধান তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহ্বায়ক হামিদা হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআইজিডির গবেষক মাহিন সুলতান এবং টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, গত কয়েক মাসে জিনিস পত্রের দাম ভয়াবহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব কমবেশি সবার ওপরই পরে। বাংলাদেশে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ শ্রমজীবী। তাদের আয়ের ৮০ ভাগ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। এই খাদ্যপণ্যের দাম যখন বেড়ে যায় তখন তারাই সবচেয়ে বিপদে পড়ে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শ্রমিকরা মজুরি পান ৮ হাজার টাকা। মুদ্রাস্ফীতির ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ৩০ ভাগ কমে গেছে। শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি হয়ে গেছে ৫ হাজার টাকা। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির দাবি, ২৫ হাজার টাকা। শুধু খাবার খরচ ২৫ হাজার। বাঁচার মতো মজুরি আরও বেশি হওয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সবার কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু রপ্তানিকারকদের লাভ হচ্ছে। কিন্তু এই লাভের অংশ শ্রমিকরা পাচ্ছে না। জিডিপি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পোশাক শ্রমিক, প্রবাসী শ্রমিক, কৃষকসহ সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষ জিডিপি ‍বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে না।

জোনায়েদ সাকি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য ৫ বছর পর পর মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি বাড়ানো হয়। কিন্তু দেশে এখন একটি দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বলছেন। এমন সময়ও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ফুটো করে ফেলেছে। এক এস আলম তিনি একাই ৯টি ব্যাংকের মালিক। এর চেয়ে বড় দুর্নীতি আর কিছু হতে পারে না। এক ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। এসআইবিএল ব্যাংক থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হলেও তাদের খোঁজ নেওয়া হয় না। কারণ তারা সরকারের ঘনিষ্ঠ লোক।

সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেলেও শ্রমিকের উন্নয়ন নেই। তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয় না। তারা ভালো বাসস্থান থেকে বঞ্চিত। ৪ বছর হয়ে গেলেও মজুরির বৃদ্ধির কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও তাদের পিটিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ শ্রমিকদের পক্ষে এভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়৷ ২৫ হাজার টাকা মজুরি করতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠন হোক৷