জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করে নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে দিতে চায় চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ। আগামীকাল রোববার ক্ষমতাসীন দলের বহুল আলোচিত 'দেখিয়ে দেওয়ার' এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ডে, যাতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনসভার মাধ্যমে 'গা-ঝাড়া' দিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এর আগে গত ১২ অক্টোবর এ মাঠেই গণসমাবেশ করে দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। ফলে তাদেরও ছাড়িয়ে যাওয়া এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সরকারি দল। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে এবার বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নগরজুড়ে সাড়ে সাত হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এই তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে এসএসএফ, পিজিএফ, সাদা পোশাকের পুলিশ, ইউনিফর্মের পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তায় থাকবে আর্চওয়ে, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, ড্রোনসহ ব্যবহার করা হবে নানা প্রযুক্তি। শুধু পলোগ্রাউন্ডেই পুলিশ থাকবে না, পুরো শহর একটি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মুখরিত গোটা চট্টগ্রাম। চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ব্যানার-পোস্টারে ভরে গেছে নগরী। সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনার জীর্ণদশা আড়াল করতে পড়েছে রঙের প্রলেপ। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে দিনে-রাতে কাজ করছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সামনে নির্বাচন হওয়ায় দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। জনসভার পর চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন হলেও কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়নি নগর যুবলীগের। ফলে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা নজর কাড়তে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার করে লোক আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলার অপর দুই সাংগঠনিক জেলা চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণের প্রতিটি উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীকে নিয়ে আসতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্নিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের। প্রতিটি সংসদীয় এলাকা থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার করে নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।