ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে ১১ দফা দাবিতে রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁরা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।

২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অনুরোধপত্র পাঠাবেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন।

রোববার সকাল ১১টায় শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন। তাঁরা মুখ ও চোখ কালো কাপড়ে বেঁধে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। মিছিল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার ভবন ঘুরে ভিসি চত্বরে অবস্থান নেয়। পরে তাঁরা পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সড়কে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত ৩৭ হাজার নিয়মিত শিক্ষার্থী চলাফেরা করেন। গত শুক্রবার রুবিনা আক্তার নামে এক নারী মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন। প্রাইভেটকার চালক তাঁকে টেনেহিঁচড়ে অনেক দূর নিয়ে যায়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রমাণ হয় ক্যাম্পাস অনিরাপদ। তাই ১১ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, রুবিনা হত্যার বিচার, প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসানো, ক্যাম্পাসে নিবন্ধিত রিকশা চলাচল ও রিকশাচালকদের জন্য আলাদা ইউনিফর্ম ও ভাড়ার তালিকা তৈরি, ভ্রাম্যমাণ দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ, প্রথম বর্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড দেওয়া এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাস থেকে মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা ও ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা, প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা, প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস খোলামেলা হওয়ায় বিভিন্নভাবে অরক্ষিত। ট্রাফিক ও প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। এ বিষয়ে আমি মেয়রকে অনুরোধপত্র পাঠাব।