ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে পদ্মাপাড়ের একটি রিসোর্টে বসেছিল গরু খামারিদের মিলন মেলা। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় পাঁচ হাজার খামারি অংশ নেন। গত শনিবার বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) উদ্যোগে ৬ষ্ঠ বারের মতো ‘আন্তর্জাতিক খামারি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। 

বিডিএফএ এর সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের সভাপতিত্বে উৎসবে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল,  মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশিদ, প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। দেশ-বিদেশের গরু খামারির মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সাল থেকে বিডিএফএ খামারিদের এ উৎসবের আয়োজন করে থাকে। 

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ভেনুজুয়েলা, ভারত, থাইল্যান্ড, কানাডাসহ সাতটি দেশের প্রায় ৫ হাজার খামারি ও উদ্যোক্তা অংশ নেন। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, খেলাধুলা ও র‌্যাফেল ড্রসহ নানা আয়োজন ছিল। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতান শিল্পী জেমস। ছিল আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র। হেলিকপ্টার  রাইডের ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। 

বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন বলেন, খামারি ভাইবোনরা প্রাণিসম্পদ খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত করেছেন। আপনাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, খামারিদের যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য কীভাবে গো-খাদ্য ও পোলট্রি খাবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায় সে চিন্তাভাবনা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সরকারের আছে। আশা করি, এ সমস্যা বেশিদিন থাকবে না। কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হবে। এছাড়া খামারিদের পরিবেশের ছাড়পত্র পেতে যেন কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টি দেখতে অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী। 

বিডিএফএ সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, এ উৎসবের মাধ্যমে ডেইরি খাত আরো সমৃদ্ধ ও গতিশীল হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের খামারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের খামারিদের যোগসূত্র সৃষ্টি হবে। উন্নত দেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও খামার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও পারস্পারিক জ্ঞানের আদান প্রদান হবে। এর মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ বিপণনে তৈরি হতে পারে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম।