সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলা এবং সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্ঠা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দুটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। মামলার সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় আদালতের বিচারক মো. শাহাদত হোসেন প্রামাণিক আগামী ১৫ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন অভিযুক্ত ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জি কে গৌছসহ ৯ জন। এছাড়া অনুপস্থিত ছিলেন আরও ৫ আসামি।

আদালতের পিপি সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সাক্ষীদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৭১ জন সাক্ষীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই সাক্ষী দিচ্ছেন না।

২০০৫ সালর ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় কিবরিয়াসহ মারা যান পাঁচজন। ২০১১ সালের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্তের  চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। কিন্তু কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া চার্জশিটের উপর নারাজি দেন। পরে ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিলেট রেঞ্জের সিনিয়র এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল পূর্বের অভিযুক্ত ছাড়াও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এ মামলায় সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক ও হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জি কে গৌছসহ ১২ জন জামিনে রয়েছেন। বাকি অভিযুক্তদের মধ্যে সাতজন পলাতক এবং লুৎফুজ্জামান বাবর, মিজানুর রহমান মিটু, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ ওরফে নিমু, মাওলানা শেখ ফরিদ আহমদ, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, আবু জান্দালসহ অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।

অপরদিকে ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সুরঞ্জিতকে হত্যা প্রচেষ্ঠায় দায়ের করা মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর ও আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। এ মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন সাক্ষ্যও দিয়েছেন।