পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকলেও গত ৩১ জুলাই 'নামের জায়গায় ফাঁকা রেখে' সই করা চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি বর্ধিত করেছেন ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ফলে কেন্দ্রীয় কমিটি কলেবরে বৃদ্ধি পেয়ে কত বড় হয়েছে, তা জানেন না সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে, গণহারে চিঠি বিতরণের কারণে অনেকেই সেই চিঠি ফটোকপি ও এডিট করে নিজের নাম ও পদবি বসিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছেন। এতে তৃণমূলের কমিটিতে পদ না পাওয়া অনেকেরই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহজেই পদ-পদবি মিলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ সম্মেলনের আগের দিন রাতেও গণহারে চিঠি বিতরণ করা হয়। বিনিময়ে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের অতিথি কক্ষে চিঠির ফটোকপি বিতরণের একটি ভিডিও সমকালের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠির ফটোকপি বিতরণ করা হচ্ছে এবং লাইন ধরে সেটা নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন একেকজন।

এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় এবং জেলা নেতা সমকালকে বলেন, আগে ছাত্রলীগের পদ পেতে হলে অনেক কষ্ট করতে হতো, মাঠের রাজনীতি করে নিজেকে প্রমাণ করতে হতো। কিন্তু বিদায়ী কমিটি কেন্দ্রীয় পদকে সস্তা বানিয়ে ফেলেছে। এখন সবাই-ই কেন্দ্রীয় নেতা।

এর ফল নতুন কমিটি ভোগ করবে। কেননা নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যখন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবেন, তখন তাঁদের কাছে এই চিঠি কমিটির অনেকেই পদের দাবি জানাবেন। এতে সংগঠনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

সূত্র জানায়, এই কর্মকাণ্ডের মূল হোতা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক খান মো. শিমুল। নিজ হল এবং কাছের লোক হওয়ায় তাঁর হাত দিয়ে চিঠি ইস্যু করেছিলেন আল-নাহিয়ান খান জয়। এই সুযোগ নিয়ে তিনি চিঠির ফটোকপি করে তা টাকার বিনিময়ে বিতরণ করছেন। জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন শিমুল। তিনি বলেন, অনেকে চিঠিগুলো ফটোকপি করে বা এডিট করে নিজের নাম বসিয়েছেন।

সম্মেলনের পরও থেমে নেই জালিয়াতি: সম্মেলনের পরও চিঠি জালিয়াতি করা নেতাদের দেখা মিলছে। এমনই একজন 'নেতা' আব্দুল্লাহ আল মুকিত। তিনি নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের পদ। সম্মেলনের পরদিন অর্থাৎ বিকেলের দিকে তিনি একটি চিঠির ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে পদ পেয়েছেন বলে জানান দেন। একই ধরনের আরও দুই ভুয়া নেতার পদ পাওয়ার চিঠি সমকালের হাতে এসেছে। একজন হলেন মো. আমিনুল ইসলাম আমিন এবং আরেকজন বিদ্যুৎ সরকার। দু'জনই সহসম্পাদক পদ পেয়েছেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিবাহিত। তার বিয়ের ছবিও সমকালের হাতে আছে। ছাত্রলীগের দপ্তর সেল তাদের জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শীর্ষ দুই নেতা ও দপ্তর সম্পাদকের পদ বিতরণের পর বর্ধিত কমিটির নেতা ক'জন- এ বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই খোদ জয়-লেখকের। তাঁরা গত ২১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বর্ধিত কমিটির সদস্য সংখ্যা কত- জানতে চাইলে সঠিক জবাব দিতে পারেননি।