সুনামগঞ্জে বোরো আবাদে ব্যস্ত জেলার চার লাখ কৃষক। অথচ কয়েকদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যের সরকারি সার-বীজ বিতরণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, অসময়ে বিতরণ করা এই সার-বীজ খুব একটা কাজে আসবে না তাদের। আরও ৭-১০ দিন আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে ভালো উপকার পাওয়া যেত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৪০ হাজার কৃষককে পাঁচ কেজি করে উফশী বোরো ধান বীজ এবং ১০ কেজি করে বিএপি এবং এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৩৮ হাজার ৫০০ কৃষককে দুই কেজি হাইব্রিড বোরো বীজ দেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জের বেশিরভাগ হাওর এলাকায় অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে বোরোর বীজতলা প্রস্তুত, বীজধান ভেজানোসহ কৃষককে নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তা চলে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এরপর চলে জমি প্রস্তুতের কাজ। পৌষের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় ধান রোপণ, যা মাঘের মাঝামাঝি পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। এ মুহূর্তে কৃষি অফিসের কৃষিসামগ্রী বিতরণের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তাতে কৃষক তেমন লাভবান হবে না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, 'কৃষি অফিস থাইক্যা ১৭ জনের বীজ একসাথে আনছি। কেউ বীজ আনার লাগি (জন্য) গেছে না। সবগুলা আমি আইন্যা (এনে) যার যার নামে বিলাইয়া দিছি। এইগুলা সপ্তাহ-দশদিন আগে দেওয়ার দরকার আছিল। সরকার গরিব-কাঙালরে দিছে কৃষিকাজে সুবিধার লাগি। তারার কামে না লাগলে অহন দিয়া লাভ কিতা?'
হালি হাওর পারের সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'জালা (বীজ) ফেলাইছি অগ্রহায়ণের প্রথম দিন। আমার জালা মোটামুটি রোপণের উপযুক্ত হইগেছে। এখন যে বীজগুলা দেওয়া হইতাছে এগুলো কোনও কাজে আসবে না। কয়েকদিন আগে পাইলে ওষুধের মতো কাম লাগলো নে।'
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, 'সার ও বীজ পাওয়া মাত্রই আমরা বিতরণের কাজ শুরু করেছি। শুক্র-শনিবার বন্ধের দিনও এ কার্যক্রম চলেছে। যারা স্কিমের জমি করে তাদের কাজে লাগবে। আমরা ইউনিয়ন পরিষদকে বলে দিয়েছি, যাঁরা এখনও বীজ বপন করেননি তাঁদেরকে যেন এ প্রণোদনাটা দেওয়া হয়। হাওরাঞ্চলে যাতে এই সুবিধাটা আরও কিছু সময় আগে পৌঁছানো হয় সে ব্যাপারে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।'
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, ১০ দিন আগে বীজ বিতরণ শুরু হয়েছে। বিএডিসি বীজ সরবরাহ করতে সময় নেওয়ায় কিছুটা দেরি হয়।