জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দশ বছর পর কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়েছে। বৃহস্পতিবার পৌরসভার হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সম্মেলন হয়।

তবে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সরাসরি নির্বাচন কিংবা কমিটি ঘোষণা ছাড়াই চলে গেছেন কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য। এ কারণে দিনভর নতুন নেতৃত্বের নাম শোনার জন্য সম্মেলনে আসা হাজারো নেতাকর্মী ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরলেন বাড়ি।

সম্মেলন ঘিরে আজ সকাল থেকে সারাদিন উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের মধ্যে। তাঁদের আলোচনার বিষয় ছিল- কে হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিভিন্ন রঙের গেঞ্জি পরে মিছিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যস্ত ছিলেন সভাপতি ও সম্পাদকের সমর্থকরা। নতুন সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচন নিয়ে দিনভর উদ্বিগ্ন ছিলেন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ৪৮৫ কাউন্সিলর। তবে শেষ পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

সম্মেলন পরিচালনা কমিটি কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে বিকেল ৩টার দিকে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হতে বলেন। সেখানে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান অতিথি ড.মহীউদ্দীন খান আলমগীর এমপি। তবে বৈঠক শেষে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে চলে গেছেন তাঁরা।

জেলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে কুমিল্লা যাবেন বলে ব্যস্ততার কারণে দ্বিতীয় অধিবেশন মুলতবি রাখা হয়। তবে ঢাকা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশেই নাম ঘোষণা করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী একেএম আব্দুল মোতালেবের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরামর্শক্রমে পরবর্তীতে কমিটি ঘোষণা করা হবে।

সম্মেলন উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটওয়ারী। সম্মেলন পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ। প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী প্রমুখ।

সভাপতি পদে প্রার্থীরা হলেন- কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সদস্য শাহজাহান শিশির, বর্তমান সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী, সহসভাপতি কামরুন নাহার ভূঁইয়া, কচুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আকতার হোসেন, সোহেল ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা ফয়েজ আহম্মেদ স্বপন ও হুমায়ন কবির মিয়াজী।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন, পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নাজমুল আলম স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লালু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল জব্বার বাহার ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক প্রমুখ।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়।