গত কয়েক দিনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, সংঘাত, ধড়পাকড়, আটক, গ্রেপ্তার ও নানা নাটকীয়তার পর শুক্রবার রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে অনুমতি পাওয়ার পরপরই দেশের নানা জায়গা থেকে আগত নেতাকর্মীরা ছোটো ছোটো মিছিলে সমাবেশ স্থলে হাজির হতে শুরু করেছেন। সন্ধ্যার পরপরই মাঠ ছাড়িয়ে মূল সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে আগত জনতা। গোলাপবাগ মোড় থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রাস্তার এক পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশ স্থলের আশেপাশের ইন্টারনেটের গতি কমতে থাকে। রাত ১০টার পর ইন্টারনেট প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কোনো অপারেটরেই দ্রুতগতির ইন্টারনেট কাজ করছে না বলে জানা গেছে।

রাতে সমাবেশ স্থল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মীরা জটলা হয়ে বসে দলীয় শ্লোগান দিচ্ছেন। কেউ কেউ চট-ছালা বিছিয়ে মাঠেই শুয়ে পড়েছেন। ব্যানার ফেস্টুন লাগানো, মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন অনেকেই। 

সমাবেশ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই-তিনদিন আগেই ঢাকা এসেছেন অনেক নেতাকর্মীরা। নড়াইল থেকে আগত ছাত্রদলের এক নেতা জানান, তিন দিন আগেই ঢাকা এসেছেন সমাবেশে যোগ দিতে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা থেকে আসা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মাজেদা আক্তার সমকালকে জানান, সমাবেশের জন্য বুধবারেই ঢাকা এসেছেন। তাদের এলাকা থেকে ৩০০-৪০০ লোক ঢাকায় উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। 

টাঙ্গাইল থেকে আসা রেজাউল জানান, তারা দুপুরেই ঢাকা এসেছেন। পথে তেমন ভোগান্তি হয়নি। তবে এখানে এসে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না ফোনে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিনে সাড়ে তিন লাখ নতুন সিম ঢাকায় প্রবেশ করেছে।

এদিকে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠ এলাকায় শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলোকে দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ফোর–জির বদলে টু–জিতে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে তাদের।

সরকারের একটি সংস্থার পক্ষ থেকে শুক্রবার এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।