ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বেবিচকের সাবেক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতায় উঠছে নানা প্রশ্ন

বেবিচকের সাবেক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতায় উঠছে নানা প্রশ্ন

.

 শহিদুল আলম

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:১৮

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক এক কর্মকর্তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে উঠছে নানা প্রশ্ন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নিলে তিনি দুবাইয়ে থাকা দুই ‘বন্ধু’র কথা বলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দু’জনই স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের হোতা। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশি 
বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এম মাসুদ ইমামের তিনটি মানিব্যাগ থেকে গত শুক্রবার জব্দ করা হয় প্রায় সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ। গ্রেপ্তার মাসুদ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক উপপরিচালক। 
সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক ঘটনার নজির পাওয়া যায়। তল্লাশি চালিয়ে বিমানবন্দরে কর্মরত বেবিচকের কিছু কর্মীর কাছ থেকে জব্দ করা হয় স্বর্ণের বার। এসব ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। এগুলোর তদন্ত চলছে। এ ছাড়া চক্রটির বেশ কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে বেবিচকের প্রশাসন বিভাগেও মামলা চলছে। 
বিমানবন্দর থানার এসআই আসাদুজ্জামান শেখ সমকালকে বলেন, গত শুক্রবার রাতে দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৪ নম্বর ফ্লাইটে কোটি টাকার স্বর্ণ নিয়ে বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মাসুদ ইমাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন। তল্লাশি চালিয়ে তাঁর হেফাজতে থাকা তিনটি মানিব্যাগ থেকে জব্দ করা হয় 
৩ হাজার ৪৯৮ গ্রাম স্বর্ণের বার ও কয়েন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ১৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা। 
এ ঘটনায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মাসুদ ইমামের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান আইনে মামলা করেন। শনিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ ইমাম পুলিশকে জানান, দুবাইয়ে তাঁর দুই বন্ধু শাহীন ও সোবহান এসব স্বর্ণ তাঁকে দিয়েছেন। ওই দু’জনকে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের হোতা মনে করে তাদের খুঁজছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট অন্যদের সন্ধান পেতেও চেষ্টা চলছে। রিমান্ড শেষে মাসুদকে আবার আদালতে তোলা হবে।
জানা যায়, মাসুদ ইমামের বাবার নাম আলী ইমাম। তিনি রাজধানীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দক্ষিণ কাফরুলে থাকেন। আদি বাসস্থান পিরোজপুর জেলায়। তাঁর ওই দুই বন্ধুর গ্রামের বাড়ি নরসিংদী এলাকায়।  
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ শাহজাহান সমকালকে বলেন, স্বর্ণ পাচার মামলা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×