ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিআইডব্লিউটিএর অভিযানে বাধা

বিআইডব্লিউটিএর অভিযানে বাধা

খুলনায় বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে সড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে রাখে ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকালে রূপসা চর এলাকায় সমকাল

খুলনা ব্যুরো ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৪৮

খুলনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমিতে অবৈধ দুটি দোকান উচ্ছেদ নিয়ে তুলকালাম ঘটেছে। এ সময় কাঠ ব্যবসায়ীরা আভিযানিক দলকে বাধা দিতে সড়কে কাঠ ফেলে দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। ভাঙচুর করা হয় দুটি গাড়ি। গতকাল সোমবার সকালে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা চর এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। একই দিন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়েও বাধার মুখে পড়েন বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা। পরে দুপুরের দিকে বেশ কয়েকটি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রূপসা স্ট্যান্ড রোডের কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, রোববার বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হয়। এর প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১০টায় ওই এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তারা এ সময় কাঠের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন।

রূপসা স্ট্যান্ড রোড কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সেলিম কাজীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা পশ্চিম রূপসা চর এলাকায় নদীর তীরে কাঠের ব্যবসা করে আসছেন। ২০০৭ সাল থেকে জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। উল্টো তাদের উচ্ছেদের জন্য বিআইডব্লিউটিএ গত ১০ জানুয়ারি নোটিশ দেয়। এরপর গতকাল উচ্ছেদ অভিযানে এলে ব্যবসায়ীরা বাধা দেন।
সিটি করপোরেশনের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জলি বলেন, কাঠ ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কোনো কর্ণপাত করছে না। তাই তারা উচ্ছেদ অভিযানে এলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আক্তারের নেতৃত্বে তারা পুলিশ ও এক্সক্যাভেটর নিয়ে রূপসা নদীর তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানে যান। এর আগেই কাঠ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা হামলা চালায়। এ সময় তাদের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় নুরুল হক, অনুকূল চন্দ্র ও আকতার নামে তিন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, ‘বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।’ কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হতে হয়েছে জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তারা মামলা করবেন।
এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানে আসেন বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তাদের বাধা দেয়। এ কারণে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
ওই এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর বেশ কয়েকটি বিশাল টার্মিনাল রয়েছে। এসব টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে শত শত ছোট-বড় দোকান স্থাপন করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় একাধিকবার এসব দোকান সরিয়ে নিতে নোটিশ দিলেও দোকানিরা শুনছেন না। 
তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তারা নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক আগেই। এর পর পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দৌলতদিয়া ঘাটের আয়-রোজগার কমে গেছে। তার পরও ঘাট এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা করে কোনোমতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। 
মো. মিলন খান নামের এক ব্যবসায়ীর পান-সিগারেটের দোকান গতকাল উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল পরিবার-পরিজন নিয়ে কী খাব, তার নিশ্চয়তা থাকল না। ঘরে এক কেজি চালও নেই। দোকানের আয়ে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলছিল, তাও আজ বন্ধ হয়ে গেল।’ তাঁর ভাষ্য, কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো নোটিশ দেয়নি। হঠাৎ করেই দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান মণ্ডল বলেন, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষ এখানে সামান্য পুঁজি নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে পরিবারের খাবার জোগান। সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে। 
তাঁর অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মচারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিয়ে থাকে। তাদের টাকার অঙ্ক বাড়াতে মাঝে মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। বেশি টাকা না দেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফের ভাষ্য, আগেই নোটিশ দিয়ে সময় দেওয়া হয়েছিল। আইন মেনে এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তাদের নিজস্ব জমি থেকে পর্যায়ক্রমে শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

আরও পড়ুন

×