ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ব্যাংক ঋণ নিয়ে অর্থ পাচারকারীর তালিকা প্রকাশ করুন: সংসদে এ. কে. আজাদ

ব্যাংক ঋণ নিয়ে অর্থ পাচারকারীর তালিকা প্রকাশ করুন: সংসদে এ. কে. আজাদ

জাতীয় সংসদে প্রথম বক্তব্য রাখেন এ. কে. আজাদ- ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৯:৫৯ | আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২২:৩০

ব্যাংক ঋণ নিয়ে দেশের বাইরে অর্থ পাচারকারীর তালিকা সংসদে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ. কে. আজাদ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ও আওয়ামী লীগের ইশতেহারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবার আগে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সোমবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

ফরিদপুর-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত এ. কে. আজাদ সোমবারই প্রথম সংসদে বক্তব্য দেন। ব্যাংক খাতের সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পথনকশাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখন খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে এটা আরও বেশি। অবলোপনের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেখানো হয়। যারা ঋণ নিয়ে কলকারখানায় বিনিয়োগ করে ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তদন্তসাপেক্ষে তাদের ছাড় দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু যারা ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেনি, পাচার করেছে, বিদেশে বেগমপাড়া-সেকেন্ড হোম বানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা এবং সংসদে তাদের তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। যারা ব্যাংক লুট করেছে তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী। এদের আইনের আওতায় আনা না গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না।

স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও মূল্যস্ফীতির জন্য যারা ব্যাংক লুট করেছে তারা দায়ী। একক কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়। এদের আইনের আওতায় আনা না গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এ. কে. আজাদ বলেন, বিবিএসের ২০২২ সালের প্রতিবেদন মতে, দেশের প্রায় ৪১ শতাংশ তরুণ নিষ্ক্রিয়। তারা পড়াশোনায় নেই, কর্মসংস্থানেও নেই; এমনকি কোনো কাজের প্রশিক্ষণও নিচ্ছে না। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সসীমার নিষ্ক্রিয় তরুণের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ। অন্যদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ১৬৭। মানবসম্পদকে উপযুক্ত করে প্রশিক্ষিত করতে পারলে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশ থেকে রেমিট্যান্স চলে যাওয়াও ঠেকানো যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও ভবিষ্যৎমুখী নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনার) নেতৃত্বে গত ১৫ বছর বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।’ সেই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সবার মনযোগ আকর্ষণ করেন এই সংসদ সদস্য।

এ. কে. আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্ব ছাড়া পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হতো না। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগও এক যুগান্তকারী ঘটনা। ঢাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত যে উন্নয়ন হয়েছে, তার সঙ্গে ফরিদপুর শহরকে যুক্ত করা দরকার। ফরিদপুরকে আধুনিক, উৎপাদনশীল এবং স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ফরিদপুর-বরিশাল সড়ককে চার লেনে উন্নীত করারও দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ফরিদপুরে এখনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি। উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন হতে পারে ফরিদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ফরিদপুরের ৪১৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২৫০ কিমি সড়কের অবস্থা নাজুক। দ্রুত এর মেরামত হওয়া দরকার বলেও দাবি জানান তিনি।

এই সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে, ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করতে চান জানিয়ে এ. কে. আজাদ বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে চান। এ ব্যাপারে তিনি স্পিকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

প্রথমবার জাতীয় সংসদ সদস্য হতে পেরে এ. কে. আজাদ আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জানান এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তাকে নির্বাচিত করার জন্য ফরিদপুর-৩ আসনের চার লক্ষাধিক ভোটারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×