ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

‘প্রমাণ হয়েছে, আমিই বৃষ্টির বাবা’

খোকসার বনগ্রামে দাফন 

‘প্রমাণ হয়েছে, আমিই বৃষ্টির বাবা’

বৃষ্টি খাতুন। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪ | ২২:৩০ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৪ | ২২:৩৯

‘১১ দিন অপেক্ষার পর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে আমিই বৃষ্টির বাবা। বৃষ্টি আমার মেয়ে, এটা প্রমাণ করতে পেরে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’ গতকাল সোমবার বৃষ্টি খাতুনের নিথর দেহ বুঝে নেওয়ার সময় এভাবেই বলছিলেন সাবলুল আলম সবুজ। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গের সামনে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর, যাঁর প্রকৃত নাম বৃষ্টি খাতুন। সাবলুল আলম তাঁর মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করলেও নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিশ্রুতি নামের মেয়েটি আসলে বৃষ্টি খাতুন এবং সাবলুল আলম তাঁর বাবা। পুলিশ পরিবারকে বুঝিয়ে দেয় বৃষ্টির মরদেহ।

মেয়ের মরদেহ গ্রহণের সময় সাবলুল আলম বলেন, ‘একদিকে মেয়ের মৃত্যু, অন্যদিকে বাবা প্রমাণ করার বিষয়টি ছিল খুবই কষ্টের। এই দিনগুলোর স্মৃতি সারাজীবন আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে।’ তথ্য যাচাই-বাছাই করে সন্তানের মরদেহ হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১১ দিন ঘুরেছি, সন্তানের লাশ পাইনি। এই ১১ দিন ঘুমাতেও পারিনি। মেয়ের শোকে তাঁর মা অসুস্থ। বোনেরা কান্নাকাটি করছে।’  

সাবলুল আলম সবুজের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা থানার বনগ্রামে। সেখানে ব্র্যাক স্কুলে পড়াশোনা শেষে হাইস্কুলে ভর্তি হন বৃষ্টি। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকায় ইডেন কলেজে। গতকাল বনগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। বৃষ্টির চাচা জোয়াদ আলী জানান, সাবলুল আলমের তিন মেয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছিলেন বড়। পড়ালেখার পাশাপাশি বৃষ্টি সাংবাদিকতা করতেন।

ঢাকা মেট্রো সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘অভিশ্রুতি শাস্ত্রী নামে বিভিন্ন স্থানে চাকরি করেছেন বৃষ্টি। আদালতের নির্দেশ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরদিন বার্ন ইনস্টিটিউটে বৃষ্টির লাশ শনাক্ত করেন তাঁর বাবা। তবে রমনা কালী মন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা দাবি করেন, মৃতের নাম অভিশ্রুতি শাস্ত্রী, তিনি নিয়মিত মন্দিরে আসতেন। এজন্য তাঁর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের দাবি জানান উৎপল সাহা। আদালতের অনুমতি নিয়ে মর্গ থেকে মরদেহের ডিএনএ ও ময়নাতদন্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এদিকে, রোববার রাতে কালী মন্দিরের সভাপতি পুনরায় লিখিত আবেদনে বলেন, ‘আমার কোনো দাবি নেই। একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। প্রকৃত স্বজনের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হোক।’ 

আরও পড়ুন

×