নির্বাচনী বছরে বিশ্ব বেনিয়াদের প্রেসক্রিপশনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি সূচকে বাংলাদেশকে এক ধাপ নামানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ইদানীং সংস্থাটির অনেক কার্যক্রম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দুর্নীতির যে সূচক প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন হয়েছে। এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে তো আর কোনো প্রতিবেদন হবে না। আগামী বছর আবার জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রতিবেদন হবে, তখন নির্বাচন হয়ে যাবে।

ইদানীংকালে টিআইর কার্যক্রম নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের টিকাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের আগ বাড়িয়ে দেওয়া বক্তব্য আমাদের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়েছে। পরে অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু বক্তব্যের জন্য টিআই ক্ষমা চায়নি।

মন্ত্রী বলেন, টিআইর মতো সংস্থা থাকা ও তাদের কার্যক্রমকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু তাদের কার্যক্রম বিশ্ব বেনিয়া ও তাদের কারও কারও সহায়ক কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। বিএনপি আমলে টানা চারবার এককভাবে দুর্নীতিতে দেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি দমন জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ায় দুর্নীতি কমে গেছে।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিএনপির সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের সব দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে জ্বালানির মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি। আমেরিকাসহ উন্নত দেশে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এর পরও বাংলাদেশে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ভর্তুকিরও তো একটা মাত্রা আছে। অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।