‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শিরোনামের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার বীজ রোপণ করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বাংলা ভাষাকে তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর কাছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত।

বুধবার বিকেল তিনটায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী সচেতনভাবে বাঙালির কাছ থেকে ভাষার অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। তাদের সেই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন বাঙালির ত্রাণকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনি ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা পর্বে, ১৯৪৮ সালে রাজপথে আন্দোলন ও কারাবরণ, পরে আইনসভার সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রভাষার সংগ্রাম ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বাংলা ভাষাকে তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর কাছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিহাসের অনন্য দৃষ্টান্ত।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দীন আহমেদ বলেন, ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়েছিল ‘রাষ্ট্রভাষা ২১ দফা ইশতেহার’ পুস্তিকাটি। এই ইশতেহার প্রণয়নে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান ছিল অনস্বীকার্য এবং তিনি ছিলেন অন্যতম স্বাক্ষরদাতা।’

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘ভাষা শহীদ রফিক, সালাম, বরকত, শফিউরসহ শহীদের রক্তস্নাত এই অর্জন বিশ্বে বাঙালিকে অমর করে রেখেছে। এ আন্দোলন এবং বাংলা ভাষার প্রসারে বঙ্গবন্ধুর গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী অবদান রয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সভাপ্রধান ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সঞ্চালনায় বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদার বক্তব্য প্রদান করেন।