ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারার প্রশংসা জাতিসংঘ মহাসচিবের

বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারার প্রশংসা জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৩:৪২ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৩:৪২

বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নের গতিধারার প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

স্থানীয় সময় শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নের গতিধারার প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ আগামী বছরগুলোতে বিশেষ করে এসডিজি অর্জনে আরও সাফল্য অর্জন করবে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে শীর্ষ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আন্তোনিও গুতেরেস চলমান বৈশ্বিক সংঘাত, আর্থিক, জ্বালানি ও খাদ্য সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এই প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী 'ব্ল্যাক সি গ্রেইন' উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে সার ও শস্য আমদানির মাধ্যমে তাদের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করে।

জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে সারের কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, যা বাংলাদেশ সাশ্রয়ী মূল্যে আমদানির কথা বিবেচনা করতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগানোর কথা বিবেচনা করবে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিষয়ে গৃহীত রেজ্যুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকট এবং এই সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা এই সংকট সমাধানে আসিয়ানের কার্যকর নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মহাসচিব ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরোসি, ডিপার্টমেন্ট অব পিসবিল্ডিং অ্যান্ড পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্সের (ডিপিপিএ) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লো ও পিস অপারেশন বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্‌রুয়ার সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×