রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে মগবাজার গার্লস হাইস্কুলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম গাজী সামসুন নেসা গার্লস হাইস্কুল। গাজী সামসুন নেসা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মা। আর মন্ত্রীর পুত্র ও গাজী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী গোলাম আসরিয়া এই স্কুলটির বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। মন্ত্রী নিজেও ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে,  স্কুল ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই নামকরণের অনুমতি দিয়েছে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোবারেকা খালেদ গত ৭ ডিসেম্বর নাম পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শন প্রতিবেদনের পর বেশ দ্রুতগতিতেই নাম পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়। এরই মধ্য তড়িঘড়ি করে প্রতিষ্ঠানের নাম ফলকও পরিবর্তন করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম কেন পরিবর্তন করা হলো– সে বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী গোলাম আসরিয়া বা প্রধান শিক্ষক মোবারেকা খালেদের বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা ৬৫ বছর  প্রতিষ্ঠানটির নাম মগবাজার গার্লস হাইস্কুল থাকলেও এটি মূলত ৫২ সিদ্ধেশ্বরীতে অবস্থিত। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি রমনা থানা এলাকার বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসের পাশে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ জন শিক্ষক আর প্রায় ৩০০ ছাত্রী রয়েছে। ইস্পাহানি গ্রুপের দানে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন এই স্কুলের জায়গাটিও তাদেরই দেওয়া।

জানা গেছে, কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিনামে করতে গেলে অথবা নাম পরিবর্তন করে ব্যক্তির নামে নামকরণ করতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণের ক্ষেত্রে আগ্রহী ব্যক্তিকে স্কুলের তহবিলে ৩০ লাখ টাকা জমা দিতে হয়। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত (রেজল্যুশন) নিতে হয়। আশপাশের এলাকার মানুষের মতামত নিতে হয়। এসব করে নাম বদলের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন দিতে হয়। তারপর আনুষঙ্গিক কাজগুলো করা হয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গত রাতে সমকালকে বলেন, নাম পরিবর্তনের আবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আমাদের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে এসে প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় সবকিছু বিবেচনা করে গত সোমবার নাম পরিবর্তনের অনুমতি দিয়েছে।