গাড়ির হর্ন, অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। সড়কে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। ইফতারের আগে ঘরে ফেরার চেষ্টা। তবে বিজয় সরণির মোড়ে একজনের সেই তাড়া নেই। তিনি কনস্টেবল মোক্তার হোসেন। এক হাতে পানির বোতল ও খাবারের প্যাকেট নিয়ে ব্যস্ত সড়কের মাঝেই দাঁড়িয়ে তিনি। আরেক হাত প্রশস্ত করে গাড়ি যাওয়া-আসার সংকেত দিচ্ছিলেন। মোক্তারের মতো প্রায় সব ট্রাফিক পুলিশের সদস্য রাস্তায় ইফতার করেন।

বৃহস্পতিবার বিজয় সরণির মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। ইফতারির সময় খোদ ডিএমপির প্রধানকে পেয়ে ট্রাফিক সদস্যদের চোখে-মুখে ছিল খুশির আভা। এরপর নভো থিয়েটারের সামনে দুস্থদের মধ্যে ইফতার সামগ্রীও বিতরণ করেন কমিশনার। 

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, রোজায় ইফতারির সময় ট্রাফিক সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তারা ইফতার করছেন। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমি তাদের স্যালুট জানাই। তাদের কষ্টের সামান্য অংশীদার হওয়ার জন্য এখানে এসেছি। নাগরিকদের বাসায় ইফতার করার সুযোগ করতে ট্রাফিকের যেসব সদস্যরা কষ্ট করছেন তাদের এই সম্মান প্রাপ্য। নগরবাসীকে বলব, আপনারা ট্রাফিক পুলিশের দোষ-ত্রুটি দেখেন। তবে তারা আপনাদের সেবায় অমানবিক পরিশ্রম করছে এটা মাথায় রেখে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রোজা ও ঈদ নির্বিঘ্নে যাতে নগরবাসী উদযাপন করতে পারেন সেই লক্ষ্যে পুলিশ তৎপর। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করে যাচ্ছি। 

বিজয় সরণিতে কনস্টেবল মোক্তার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বললেন, ৭-৮ বছর ঢাকায় ট্রাফিক বিভাগে কাজ করছি। সিগন্যালেই ইফতার করি- এতে বিন্দুমাত্র কষ্ট নেই। যানজট পেরিয়ে কেউ যদি বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে সেটাতেই আমার ভালো লাগে।