ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোকা’

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে ‘মোকা’

ঘূর্ণিঝড় মোকার গতিপ্রকৃতি (ছবি-সিএনএন)

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৩ | ০৪:৪৩ | আপডেট: ১২ মে ২০২৩ | ০৫:৫৯

প্রবল ঘূর্ণিঝড় থেকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মোকা’। শুক্রবার সকালে আরও শক্তি সঞ্চয় করে মধ্য বঙ্গোপসাগরে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এটি। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাতাসের গতিবেগ আরও বেড়েছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। 

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজার থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে: এটি শুক্রবার ভোর ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

বাতাসের গতিবেগ বাড়ছে: বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোকা আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

দুই নম্বর সংকেত: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়। 

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া মোকা এরপর উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। রোববার দুপুরে বাংলাদেশের কক্সবাজার ও মিয়ানমারের কায়াকপুরের মধ্যে আছড়ে পড়তে পারে মোকা। এ সময় গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, কক্সবাজার জেলার সকল দ্বীপ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে হবে শনিবার দুপুরের মধ্যে। সন্ধ্যার আগে সকল মানুষের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের কোনো মানুষ যেন তাদের কুঁড়েঘরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সকল মানুষকে বাণিজ্যিক হোটেলগুলোতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভব হলে অনেক মানুষকে সরিয়ে নিতে হবে টেকনাফে।

আরও পড়ুন

×