নির্বাচন বর্জন করায় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন আটজন। দল থেকে তাঁদের আজীবন বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রের কাছে গতকাল শনিবার সুপারিশ পাঠিয়েছে খুলনা বিএনপি। এ ছাড়া সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই ভোট দিতে যাবেন না বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

এদিকে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের পাঁচ নেতা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে বা ভোট দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁদের নেতাকর্মীরা ভোট দিতে যাবেন বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ সাজ্জাদ হোসেন তোতন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে একই ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আশফাকুর রহমান কাকন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব কায়সার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী ফজলুল কবীর টিটো, ২৪ ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শমসের আলী মিন্টু, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর আমান উল্লাহ আমান, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে দৌলতপুর থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম মোসফেকুস সালেহীন ও সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মাজেদা খাতুন। তবে মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল আলম মনা সমকালকে বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়া ৮ জন দু-এক দিনের মধ্যে দল থেকে বহিষ্কার হবেন। নেতাকর্মীকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। বিএনপি যেহেতু নির্বাচন বর্জন করেছে, তাই নেতাকর্মীর ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন তোতন বলেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরবেন না। কাউন্সিলর পদে নির্বাচন দলগতভাবে হয় না, ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন।

এদিকে নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের পাঁচ নেতা। তাঁরা হলেন– ১ নম্বর ওয়ার্ডে দৌলতপুর থানা জামায়াতের নায়েবে আমির আজিজুর রহমান স্বপন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাস্টার শফিকুল আলম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একই ওয়ার্ড আমির মশিউর রহমান রমজান, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাডাঙ্গা থানা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম পান্না এবং ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।

কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল সমকালকে বলেন, তাঁদের কেউ দলগতভাবে কাউন্সিলর প্রার্থী হননি, সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি কিংবা নিষেধাজ্ঞা নেই। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট এখন কার্যকর নেই। ফলে বিএনপির সিদ্ধান্ত তাদের নিজস্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর জামায়াতের অপর এক নেতা বলেন, দল থেকে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় নেতাকর্মীরা ভোট দিতে যাবেন। কাউন্সিলর পদে পছন্দের প্রার্থীকে তাঁরা ভোট দেবেন। তবে মেয়র পদে কাকে ভোট দেবেন, সে বিষয়ে  পরে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

আগামী ১২ জুন খুলনা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৩১। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। ভোট পড়েছিল ৩ লাখ ৬ হাজার ৬৩৬টি; অর্থাৎ ৬২ শতাংশ। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট।