ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের কাজ পাচ্ছে সামিট

মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের কাজ পাচ্ছে সামিট

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৩ | ২১:৪১ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৩ | ২১:৪১

কক্সবাজারের মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজও পেতে যাচ্ছে দেশীয় কোম্পানি সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং লিমিটেড। এ টার্মিনাল থেকে দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এলএনজি পাইপলাইনে সরবরাহ করা যাবে। সামিটকে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ দিতে পেট্রোবাংলার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরও ১২টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। 

অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজে আগ্রহী ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বৈঠকে প্রস্তাবটির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বেশি কিছু আলোচনা হয়নি। মহেশখালীতে বর্তমানে ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু আছে। এর একটি পরিচালনা করছে সামিট। অন্যটির দায়িত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।

ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গতকালের বৈঠকে পেট্রোবাংলার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি এলপির কাছ থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট খরচ হবে ৫৭৪ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে ১৩ দশমিক ৯ ডলার।

টিসিবির জন্য কেনা হচ্ছে ১৯৩ কোটি টাকার তেল-চিনি 

আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রির জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি ও ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, টিসিবির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দর পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুরের প্রিন্সিপাল মেট্রিস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি টন চিনির মূল্য ধরা হয়েছে ৪৭৭ দশমিক ৯৪ ইউএস ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৫০ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৪ কোটি ৫২ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য উন্মুক্ত দর পদ্ধতিতে সিটি এডিবয়েল লিমিটেড থেকে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হচ্ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬১ টাকা ৩৭ পয়সা। এতে মোট খরচ হবে ১২৯ কোটি ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। 

৯০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) জন্য কাফকোর কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার ১০৪ কোটি ৪৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিসিআইসির জন্য আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার ৯৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরেক প্রস্তাব অনুসারে, বিসিআইসির জন্য কাতারের মুনতাজাত থেকে ৩০ হাজার টন সার ৯৮ কোটি ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। 

এ ছাড়া অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার থেকে জিটুজি ভিত্তিতে সার কিনতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সচিব জানান, বিসিআইসির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিটুজি চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া জিটুজি চুক্তির আওতায় মুনতাজাত কাতার থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়। সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় একই অর্থবছরে ইউরিয়া সার আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলেও পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

কমিউনিটি ক্লিনিক পাচ্ছে ২৫০ কোটি টাকার ওষুধ

অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার কর্তৃপক্ষের (সিবিএইচসি) জন্য ১৪ হাজার ২০০টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ২৭ প্রকার ওষুধ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরকারি এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি কার্টন ২২ হাজার ১৬৪ টাকা হিসাবে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯০ কার্টন ওষুধ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ২৪৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।


আরও পড়ুন

×