পাহাড়ি তিন জেলায় নীরব চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। অবৈধ অস্ত্রধারীদের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব জেলা অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কাও করছে তারা। এজন্য ভোটের আগেই জেলাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, দীপংকর তালুকদার, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, বাসন্তী চাকমা ও নোমান আল মাহমুদ।
কমিটি-সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদীয় কমিটির আগের বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য দীপঙ্কর তালুকদার পার্বত্য এলাকা মাঝেমধ্যে অবৈধ অস্ত্রধারীদের কারণে অশান্ত হয়ে ওঠে অভিযোগ তুলে বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগেই তিন পার্বত্য জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যক্রম চালাতে হবে।

পার্বত্য বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈ হ্লা কেএনএফ (কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, কেএনএফ ২০১৩ সালে সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে। তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও জঙ্গিগোষ্ঠী-সম্পৃক্ত হওয়ায় যে কোনো সময় সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করেন ক্যশৈ হ্লা।
এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, পার্বত্য এলাকার পাড়ামহল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে নীরব চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে।

দীপংকর তালুকদার গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, পার্বত্য অঞ্চল যাতে শান্তিপূর্ণ থাকে এবং সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ক্যশৈ হ্লা আরও বলেন, তাদের (কেএনএফ) স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ছিল। এজন্য সরাসরি বৈঠকের একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৈঠকের তারিখ জানা যাবে।

সংসদ সচিবালয় জানায়, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় গতকালের বৈঠকে। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র যেন দেশে আসতে না পারে, সেজন্য পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।