ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গ্রামে নেই নারীর কাজের স্বীকৃতি

বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস আজ

গ্রামে নেই নারীর কাজের স্বীকৃতি

সাজিদা ইসলাম পারুল

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

এখনও ত্রিশের গণ্ডি পার করেননি গোলাপী কালিন্দী। কোলের শিশুকে বাসায় রেখে চা বাগানে কাজ করেন। দুই বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর একাই ঘরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন। মৌলভীবাজারের সাতগাঁও চা বাগানে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাতা তোলার কাজ করেন তিনি। আবার বাড়ি গিয়ে করেন বাসার কাজ। তাঁর একটাই চাওয়া, মেয়ে দুটিকে বড় করে তোলা। গোলাপী জানান, তিনি প্রতিদিনই প্রায় ৫০ কেজি চা পাতা তোলেন। সেই ঝুলি নিয়ে বাগান থেকে নিচে নেমে হেঁটে গিয়ে পাতা জামা দেন। প্রতি ২৪ কেজি পাতায় ১৭০ টাকা করে পান তিনি।

প্রখর রোদ ও ঝড়বৃষ্টিতে এভাবেই ঘরে-বাইরে কাজ করে যাচ্ছেন গ্রামীণ নারীরা। ঘরের কাজের স্বীকৃতি যেমন নেই, তেমনি বাইরে রয়েছে মজুরি বৈষম্য। এ জন্য তারা শহরমুখী হচ্ছেন। এমন প্রেক্ষিতে আজ ১৫ অক্টোবর সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য দূরীকরণসহ নানা ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিলসের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা চা শ্রমিকদের হেঁটে আসতে হয় কর্মস্থলে। প্রায় ১০ শতাংশ নারী জানেই না মাতৃত্বকালীন ছুটির কথা। ১৩ শতাংশ জানায়, মাত্র ১২ সপ্তাহ তারা এই ছুটি পায়। বেশির ভাগ চা বাগানেই টয়লেট নেই। প্রায় ৮৮ শতাংশ শ্রমিক খোলা জায়গায় এবং ১২ শতাংশ চা বাগানে মলত্যাগ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশে ৯৭ শতাংশ নারী চা শ্রমিকের কোনো নিয়োগপত্র নেই।

শুধু চা বাগানেই নয়, সারাদেশেই বৈষম্য ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন নারীরা। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কৃষিতে শ্রমদানকারী নারীদের ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ পারিশ্রমিক পায় না। বাকি ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ বাজারমূল্যের চেয়ে কম পারিশ্রমিক পায়। পুরুষের থেকে ৪৩ শতাংশ নারী শ্রমিক কম মজুরি পান। সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকায় তারা বাধ্য হয়েই এটা মেনে নেন।

রাজধানীর মিরপুরে শীতকালীন পিঠা বিক্রি করেন সুফিয়া। সকালে উঠে ঘরের রান্না সেরে বিভিন্ন বাসায় কাজ করেন। পরে বিকেল ৫টা থেকে পিঠা বিক্রি শুরু করেন। চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। অভাবের কারণে রংপুর থেকে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন তিনি। সুফিয়া বলেন, ‘গেরামে ধরেন, ভোর রাইত্ত থিকা মাঝ রাইত পর্যন্ত কাম করতাম। মাঠের কাম, ঘরের কাম সবই করতাম। এত কিছু কইরাও টাকা আমার থাকত না। এই যে পিঠা বেচি। আমার টেকা শ্বশুরবাড়িতেও যায়। নিজের যে দাম আছে তা এখন বুঝতে পারি।’ এই গ্রামীণ নারীদের শহরমুখী হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর মধ্যে নারীর কাজের মূল্যায়ন না করাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বিশিষ্টজন।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি। কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তার পাশাপাশি বেড়েছে সাইবার হয়রানি। ফেসবুক, ইমোসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অজান্তেই সাইবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রামীণ নারী ও কিশোরীরা। এ হয়রানি প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন। ১৯৯৫ সালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের চতুর্থ নারী সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে পালনের কথা বলা হয়।

আরও পড়ুন

×