ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

বিশ্ব ধাত্রী দিবস আজ

প্রসূতিসেবা চলছে ৮৮ শতাংশ কম ধাত্রী দিয়ে

প্রসূতিসেবা চলছে ৮৮ শতাংশ কম ধাত্রী দিয়ে

প্রতীকী ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪ | ১২:৩২

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২২ হাজার মিডওয়াইফারি বা ধাত্রী প্রয়োজন। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫৫৭ ধাত্রী। অর্থাৎ প্রায় ৮৮ শতাংশ কম ধাত্রী দিয়েই চলছে সারাদেশের প্রসূতিকালীন সেবা। ফলে বাড়ছে প্রসূতি ও শিশুমৃত্যু হার। একই সঙ্গে নির্ভরতা বেড়েছে সিজার (সি সেকশন) বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবে।

নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য প্রশিক্ষিত ধাত্রী বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক অপ্রশিক্ষিত ধাত্রী আছেন, যাদের হাতে বাড়িতে এখনও ৩৫ শতাংশ নারীর সন্তান প্রসবে জটিলতা দেখা দেয়। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রী তৈরি করা গেলে প্রসূতি ও শিশুমৃত্যু হার যেমন কমিয়ে আনা যাবে, তেমনি নারীদের সিজার বিমুখ করা সম্ভব হবে।

জানতে টাইলে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে মা ও শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। উন্নত দেশে প্রসূতির সন্তান প্রসব করান ধাত্রীরা। জটিলতা দেখা দিলেই কেবল তারা চিকিৎসক ডাকেন। কিন্তু আমাদের প্রশিক্ষিত ধাত্রী খুবই কম। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতে বর্তমানে ২২ হাজার প্রশিক্ষিত ধাত্রী প্রয়োজন হলেও আছে হাজার তিনেক। ফলে সন্তান প্রসবে বাড়ছে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার।

এমন পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো আজ রোববার বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মিডওয়াইফ বা ধাত্রী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য– ‘মিডওয়াইফ : জলবায়ু সংকটে অপরিহার্য জনশক্তি’। দিবসটি পালনে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল, বিভিন্ন সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি করবে।

ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ডের তথ্যে, গত এক দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৮ হাজার ৬৪৬ জন ধাত্রীবিদ্যায় স্নাতক করেছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫৭ জন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে ৩৭৬ ধাত্রী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও অন্তত ৪০০ প্রশিক্ষিত ধাত্রী কাজ করছেন। দেশে প্রথম ধাত্রী নিয়োগ শুরু হয় ২০১৮ সালে।

‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স-২০২৩’ এর তথ্যে, দেশে এক বছরে অস্ত্রোপচারে সন্তান প্রসব ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ২০২২ সালে মোট প্রসবের ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল সিজার। কিন্তু ২০২৩ সালে তা এক লাফে হয়েছে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু প্রশিক্ষিত ধাত্রী থাকলে যে প্রসূতির সুবিধা হয়, তা দেখিয়েছে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে এখন মাসে ধাত্রীদের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ প্রসূতির স্বাভাবিক সন্তান প্রসব সম্ভব হচ্ছে, যা ছয় বছর আগেও ছিল ২-৩টি।

তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ধাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, আমরা নিয়মিত গর্ভবতীর রক্তচাপ, ফিটাল মুভমেন্ট পরীক্ষা করি। গর্ভবতীকে কী ধরনের পরীক্ষা করাতে হয়, তা পরামর্শ দেই। এরপর মায়েরা সেসব পরীক্ষা করে গাইনি চিকিৎসক দেখান। তাছাড়া প্রসব বেদনা উঠলে মা ও গর্ভের সন্তান কেমন আছে বারবার তদারক করি। স্বাভাবিক সন্তান প্রসব সম্ভব না হলেই কেবল সিজারের জন্য আমরা রেফার করি।

স্বাভাবিক প্রসব বৃদ্ধি ও মাতৃমৃত্যু হার কমাতে আরও ৫ হাজার মিডওয়াইফের পদ সৃষ্টি করতে গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলেও শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৪৫০টি পদ সৃষ্টির বিষয়ে অর্থছাড় হয়।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) নাসির উদ্দিন বলেন, ৪৫০ মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রান্তিক পর্যায় নয়, বড় বড় হাসপাতালেও এবার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। মিডওয়াইফের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আবারও চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, প্রয়োজন অনুযায়ী পদ সৃষ্টি করা হবে।

আরও পড়ুন

×