ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

সোর্স পরিচয়ে আইসের কারবার চালান শহীদুল

এক দশক ধরে উত্তরা গুলশানে নেটওয়ার্ক

সোর্স পরিচয়ে আইসের কারবার চালান শহীদুল

শহীদুল

 ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪ | ০০:১৯ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৪ | ০৮:৪১

বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা আইস সহযোগীর মাধ্যমে মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে দেন শহীদুল ইসলাম। মূলত রাজধানীর উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, গুলশান ও বনানীতে চলে তাঁর কার্যক্রম। কারবারের হোতা হলেও কৌশলে নিজেকে সব সময় নিরাপদ অবস্থানে রাখেন। তাই ১০ বছর ধরে ইয়াবা ও আইসের কারবার চালালেও ধরা পড়েছেন মাত্র একবার। সম্প্রতি এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় দেওয়া এই শহীদুলকে। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে মাদকচক্রের নানা তথ্য।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মিরপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঞা সমকালকে বলেন, শহীদুলের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরের নলগোড়া এলাকায়। গত ৪ মে গোপন খবরের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার চ্যানেল আই সড়কের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সহযোগী বাবুল হোসেন মেহেদীকেও গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। অভিযানে তাদের কাছে পাওয়া যায় ৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ বা আইস। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, বাবুলের বাড়ি চাঁদপুর হলেও তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ২৫ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মূলত এখান থেকেই পরিচালিত হয় আইস বিক্রির কার্যক্রম। তিনি শহীদুলের কাছ থেকে আইস নিয়ে বিক্রি করেন। এ ছাড়া ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক মাদক কারবারির কাছ থেকেও এই মাদক সংগ্রহ করেন। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শহীদুল দাবি করেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারের তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারীরা সেখানে অভিযান চালান এবং মাদক জব্দ করেন। পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি জব্দ মাদকের একটি অংশ পান। সেগুলোই তিনি সহযোগীদের মাধ্যমে বিক্রি করেন। এর বাইরে সীমান্ত এলাকা থেকেও আইস ও ইয়াবা নিয়ে আসেন বলে তথ্য মিলেছে। এক দশক ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকলেও খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেন। তাই কখনও তাঁর বাসায় হঠাৎ করে অভিযান চালালেও কোনো মাদক পাওয়া যায় না। কারণ, তিনি নিজের কাছে কোনো মাদক রাখেন না। গোপন কোনো একটি স্থানে সংরক্ষণ করেন। বিশ্বস্ত ক্রেতারা যোগাযোগ করলে নিরাপদ কোনো স্থানে ডেকে নিয়ে মাদক হস্তান্তর করেন। 

ডিএনসির এক কর্মকর্তা জানান, অনেক সতর্ক থাকার পরও ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ২০০ গ্রাম আইসসহ ধরা পড়েন শহীদুল। সে ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি মামলা রয়েছে। আর বাবুলের বিরুদ্ধে উত্তরা ও দক্ষিণখান থানায় রয়েছে মাদক-সংক্রান্ত অন্তত তিনটি মামলা। উচ্চশিক্ষিত বাবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে যুক্ত। সরকারি-বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে সংগৃহীত আইস তারা শিক্ষার্থীসহ ধনাঢ্য মাদকসেবীর কাছে পৌঁছে দেন।

এর আগে মার্চে উত্তরা-গুলশানে আইসের কারবার চালিয়ে আসা কাজী আসলাম হোসেন নাসিমকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি।

আরও পড়ুন

×