ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সার কেলেঙ্কারির হোতা সাবেক এমপি পোটন কারাগারে

সার কেলেঙ্কারির হোতা সাবেক এমপি পোটন কারাগারে

কামরুল আশরাফ খান পোটন

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০৫:৫১

দেশে সারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কামরুল আশরাফ খান পোটন। ছিলেন সার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) সভাপতি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পোটন ট্রেডার্সের এই মালিক সরকারিভাবে আমদানি করা ৭২ হাজার টন রাসায়নিক সার বন্দর থেকে খালাসের পর গুদামে পৌঁছে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৮২ কোটি টাকা। চুক্তি ভঙ্গ করায় শর্ত অনুযায়ী জরিমানা হিসাবে সারের মূল্যের দ্বিগুণ; অর্থাৎ ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা। জরিমানা শোধ তো দূরের কথা, উল্টো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিট ও সমঝোতার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলতে ১৩টি মামলা করেছেন পোটন। অবশেষে সার কেলেঙ্কারির প্রতাপশালী হোতা পোটনসহ পাঁচজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে তারা হাজির হলে জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন– পোটন ট্রেডার্সের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহাদত হোসেন নিপু ও মো. নাজমুল আলম বাদল, পোটন ট্রেডার্সের উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন এবং খুলনা ও নওয়াপাড়ার প্রতিনিধি মো. আতাউর রহমান।

ঢাকার আদালতের দুদকের প্রসিকিউশন শাখার সহকারী পরিদর্শক আক্কাস আলী জানান, মামলায় পোটনসহ পাঁচজন গত বছরের ৬ ডিসেম্বর আদালত থেকে জামিন পান। এর পর তিন দফা তাদের জামিনের মেয়াদ বাড়ান আদালত। গতকালও তারা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রায় ৫৮২ কোটি টাকার সরকারি সার আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৬ নভেম্বর পোটনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির উপপরিচালক মো. রফিকুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

২০২১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটে। 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৫০ দিনের মধ্যে সার গুদামে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল পোটন ট্রেডার্সের। আসামিরা যোগসাজশে ২০২১-২২ অর্থবছরের সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করলেও চুক্তির শর্ত ভেঙে সার বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা)  গুদামে দেননি। সার ট্রানজিটে রয়েছে বলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনকে (বিসিআইসি) মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৫৮১ কোটি ৭১ লাখ ৯ হাজার ৬৪ টাকার ৭১ হাজার ৮০১ টন ৩১ কেজি সার আত্মসাৎ করেন।

বিসিআইসি কর্মকর্তারা জানান, গুদামে সার পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে পোটন ট্রেডার্সকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়। নানামুখী তৎপরতার পর গত ২ অক্টোবর ৬৬ হাজার ২২২ টন সার সরকারি গুদামে পৌঁছানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেয় পোটন ট্রেডার্স। তবে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি তারা। এর পর সারের অবস্থানসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে গত ১০ নভেম্বর তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিআইসি।

কমিটির তরফ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বিসিআইসির তদন্ত দল সরেজমিন পোটন ট্রেডার্সের গুদামে গিয়ে মাত্র ১ হাজার ৩০০ টন সার পায়, যা ছিল ব্যবহারের অনুপযোগী। এর পর সার দিতে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। সার বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো সমঝোতার জন্য সালিশি মামলা করেছিলেন সাবেক এমপি পোটন।

আরও পড়ুন

×