ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

সড়কে অনিয়ম রোধে নতুন করে পুরোনো সিদ্ধান্ত

সড়কে অনিয়ম রোধে নতুন করে পুরোনো সিদ্ধান্ত

প্রতীকী ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ | ০৫:৫৯

আইনে প্রতি চার মাসে একবার হবে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই আইনটি পাসের পর গতকাল বুধবার প্রথম সভা হয়েছে পরিষদের। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধ্বংসের (স্ক্র্যাপ) সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকায় লক্কড়ঝক্কড় বাস নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন মন্ত্রী।

সভায় দুর্ঘটনা রোধে মোটরসাইকেলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ, চালকের হেলমেট না থাকলে জ্বালানি তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত হয়। রাজধানীতে চলতে পারবে না ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা। ২২ জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধের ৯ বছরের পুরোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। ৩১ মের পরিবর্তে ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া ফিটনেস হালনাগাদ করা যাবে। রাজধানীর বনানীতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ে সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

বিআরটিএ আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী, সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন পরিষদ স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সড়ক নিরাপত্তা বিধানে কৌশল উদ্ভাবন, বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা, দুর্ঘটনা হ্রাসকল্পে পরামর্শ, পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব, ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী দক্ষ গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংস্কারমূলক কার্যক্রম চিহ্নিত করে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেবে। ঢাকা সিটির দুই মেয়র ছাড়াও আট সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিষদের সদস্য।

বাসের ২০ ও ট্রাকের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর নির্ধারণ করে গত বছর প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল সরকার। বিকল্প ব্যবস্থা না করে ৮০ হাজারের বেশি পুরোনো যান চলাচল বন্ধ করলে নির্বাচনের আগে অস্থিরতা ও অসন্তোষের আশঙ্কা থেকে গত ৫ আগস্ট আয়ুষ্কাল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে ‘বুড়ো গাড়ি’ নিয়ে গতকাল সভায় ক্ষোভ জানান সড়কমন্ত্রী। ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানিতে সংশ্লিষ্ট ৪৩ বছরের পুরোনো বাস কীভাবে চলছিল, তা জানতে চান। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়কে ৪৩ বছরের পুরোনো গাড়ি, লক্কড়ঝক্কড় বাস কী করে চলে? এতদিন কি তাহলে বিআরটিএ ঘুমিয়ে ছিল?

পুরোনো গাড়ি দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের কারণ উল্লেখ করে গত বছর জুনে স্ক্র্যাপ গাইডলাইনের খসড়া করে সড়ক পরিবহন বিভাগ। এতে বলা হয়, আয়ুষ্কাল ফুরানো গাড়ি ধ্বংস করতে হবে সরকার নিয়োজিত ভেন্ডরের মাধ্যমে। নীতিমালা চূড়ান্ত না হলেও গতকাল সভায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপের সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় জানানো হয়, ফিটনেসখেলাপি গাড়ির সংখ্যা ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৮। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স ৩ হাজার ৯৯৩, অটোরিকশা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩, অটোটেম্পো ৬ হাজার ৭৮, বাস ২৫ হাজার ২১০, কার ৫৯ হাজার ১৭৪, জিপ ১৪ হাজার ২৩৫, মাইক্রোবাস ২৬ হাজার ৫৯৮, মিনিবাস ১২ হাজার ৪৩৮, পিকআপ ৭৮ হাজার ৯৯৬ ও ট্রাক ৬৭ হাজার ৯১৯টি।

সভায় সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সারাদেশে ট্রাক সাড়ে ৩ লাখ এবং বাস আছে ১ লাখ। ৬ লাখ গাড়ি ফিটনেসবিহীন– এমন তথ্যে ভুল বোঝাবুঝির শঙ্কা থাকে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্ক্র্যাপ করলে দৃষ্টান্ত হবে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী তখন বলেন, গাড়ির সৌন্দর্যবর্ধন নয়, জরুরি ফিটনেস। এজন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। 

মহাসড়কে মোটরসাইকেলকে নতুন উপদ্রব আখ্যা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখা যাচ্ছে, মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যান বেশি চলছে। এগুলোর কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে মোটরসাইকেলের চালকের সঙ্গে আরোহীও মারা যায়। ইজিবাইকে ৯-১০ জন থাকেন, সংঘর্ষ হলে চালকসহ সবার মৃত্যু ঘটে। তাই দুর্ঘটনা কমলেও হতাহত বেড়েছে। সারাদেশে ‘নো হেলমেট, নো ফুয়েল’ নীতি বাস্তবায়নে দুর্ঘটনা কমবে।

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, এটা আগে কার্যকর করুন। এ ছাড়া ২২ মহাসড়কে রিকশা ও ইজিবাইক নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন।

এর আগে ঢাকার দুই মেয়র শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা বন্ধে সম্মতি জানান। দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ভয়াবহ ব্যাপার, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা দুই পা ওপরে উঠিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালায়! চোখে কম দেখেন, এমন ব্যক্তিও এই রিকশা নিয়ে নেমে পড়েন।’ উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিদ্ধান্তে আসা দরকার ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলবে না।’

গাড়িতে হুটার বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, উচ্চ হর্ন বাজবে না। ১০ বছর আগে থেকে আমার গাড়িতে হুটার বাজে না। জরুরি সেবা ছাড়া হুটার বাজানো যাবে না।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান এমপি, সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×