ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

খোলাবাজারে বিক্রি শুরু

বৃষ্টিতে ভিজেও পেঁয়াজ পাননি অনেকে

বৃষ্টিতে ভিজেও পেঁয়াজ পাননি অনেকে

বগুড়ায় কমদামে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি- ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:২৯

বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রোববার থেকে ট্রাকে করে এই পণ্য কম দামে বিক্রি শুরু করেছে। প্রথম দিনেই ক্রেতারা ট্রাকের সামনে ব্যাপক ভিড় করেন। পেঁয়াজ বেশিরভাগ স্থানে দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই বৃষ্টিতে ভিজেও অনেকে টিসিবির পেঁয়াজ কিনতে পারেননি।

রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়িতে টিসিবির ট্রাকে ৩০০ কেজি পেঁয়াজ নিয়ে সকাল ১০টায় আসেন বিক্রেতা মনির হোসেন। তিনি বলেন, বাজারে বেশি দাম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা অনেক বেশি। অন্য সময় পেঁয়াজ বিক্রির শুরুর দিন সব পেঁয়াজ বিক্রি হয় না। প্রথম দিন দুপুর ১টার মধ্যেই সব পেঁয়াজ বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। তখনও দেখা যায়, ট্রাকের সমানে পেঁয়াজ ক্রেতাদের অনেক ভিড়। অনেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাইনে ছিলেন; কিন্তু পেঁয়াজ পাননি। শুধু ফার্মগেট নয়, রাজধানীর আরও অনেক এলাকায় পেঁয়াজ পাননি ক্রেতারা।

টিসিবি জানায়, প্রতিটি ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ৪০০ কেজি পেঁয়াজ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। করোনা ও বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ২৭৫টি ট্রাকে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে ঢাকায় ৪০টি, চট্টগ্রামে ১০টি, রংপুরে পাঁচটি, ময়মনসিংহে পাঁচটি; রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, বগুড়া ও কুমিল্লায় পাঁচটি করে এবং ঝিনাইদহ ও মাদারীপুরে তিনটি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি হবে। অন্যান্য জেলায় দুটি করে ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থাকছে। এ ছাড়া টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাভুক্ত উপজেলাগুলোর জন্য পাঁচটি অতিরিক্ত এবং বন্যাকবলিত জেলা ও উপজেলায় (ময়মনসিংহ, রংপুর, বগুড়া ও মাদারীপুর) অতিরিক্ত ১৩টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজি দরে প্রত্যেক ক্রেতা দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারছেন।

এখন বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ ও দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে রোববার পাইকারি আড়ত কারওয়ান বাজরে আগের দিনের তুলনায় দেশি পেঁয়াজ দুই টাকা কমে ৫২ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ১০টি পয়েন্টে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। ৩০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনতে প্রতিটি পয়েন্টে নানা বয়সী ক্রেতার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

টিসিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান জামাল উদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম দিনে বিক্রির উদ্দেশ্যে নগরে ১০টি ট্রাকে ২০০ কেজি করে পেঁয়াজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে ৬০০ কেজি চিনি, ৫০০ কেজি মসুর ডাল ও ৭০০ লিটার সয়াবিন তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকেজি চিনি ৫০ টাকা, মসুর ডাল ৫০ টাকা ও তেল ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ক্রেতা ৩০ টাকা দরে দুই কেজি করে পেঁয়াজ কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে টিসিবির গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিজনকে আরও বেশি কেজি পেঁয়াজ কেনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্রেতারা।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও দেশের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। ভারত থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজ আমদানি হলেও মূল্য বাড়ছে। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত ভারত থেকে মোট ৬৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। ভারত থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। প্রতি টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে ৩০০ ডলারে। রোববার স্থানীয় আড়তে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪২ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাচমা শারমিন মিথি বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত আছে। তারপরও বাজারে মূল্য বেশি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক আছে। প্রতিদিন আট থেকে ৯ গাড়ি পেঁয়াজ আসছে।

হিলি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা বলেন, পেঁয়াজের দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন পেঁয়াজ আমদানিকারকরা।

সরকারিভাবে মূল্য বাড়ানো না হলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বন্যায় পেঁয়াজের সংকটের অজুহাত তুলে মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন। বন্দরের আমদানিকারক মোবারক হোসেন জানান, গত বুধবার পর্যন্ত ভারত থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ২৫০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়। তখন সেই পেঁয়াজ বন্দরের মোকামে পাইকারি বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মূল্য বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪২০ ডলারে বিক্রি করছেন। বর্তমানে বন্দরে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকায়। পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্কহার প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

ভারতের হিলি স্থলবন্দরের রপ্তানিকারক সনু মজুমদার জানান, ভারতে বন্যায় পেঁয়াজের ফলনে ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন

×