ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সরেজমিন: রাজধানীর বাস টার্মিনাল

চুপেচাপে চলছে দূরপাল্লার বাস

চুপেচাপে চলছে দূরপাল্লার বাস

ছবি: ফাইল

হকিকত জাহান হকি

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২১ | ২৩:৩২

লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যেও চুপেচাপে দূরপাল্লার বাস চলছে। সাহানা ট্রাভেলসের বাস রংপুর-ঢাকা ও ঢাকা-রংপুর যাতায়াত করছে। গতকাল রোববার সরেজমিন রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে রংপুরের কালিগঞ্জ কাউন্টার থেকে এই পরিবহনের বাসে ঢাকায় আসা এক যাত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। যাত্রী নুরননবী ইসলাম জানালেন, তিনি ও তার এক সঙ্গী ১০ এপ্রিল রংপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। ঢাকায় আসার টিকিটও দেখালেন। তারা এবার রংপুর যাওয়ার জন্য গতকাল বিকেলে গাবতলী এসেছেন।

গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের পরিচয় (সমকাল প্রতিনিধি) গোপন করে ওই পরিবহনের সায়েদাবাদ অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মোহাম্মদ সোহেলকে ফোন করলে কালিগঞ্জ থেকে ঢাকায় সাহানা ট্রাভেলসের বাস চলাচলের কথা স্বীকার করেন। 'কালিগঞ্জ থেকে আমার একজন আত্মীয় ঢাকায় আসবেন, কালিগঞ্জ কাউন্টারের টিকিট দরকার'- এ কথা বলার পর মোহাম্মদ সোহেল জানালেন, 'অলরেডি কালিগঞ্জ থেকে সব বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দিয়েছে। আগামীকাল (আজ)  টিকিট পাবেন।'

গতকাল সরেজমিন গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বহু মানুষ বিকল্প যানবাহন মাইক্রো ও প্রাইভেটকারে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। কঠোর লকডাউনের খবর পেয়ে তারা ঢাকা ছাড়ছেন। লকডাউনে প্রকাশ্যে দূরপাল্লার বাসের চলাচল বন্ধ থাকায় তারা অস্বাভাবিক বেশি টাকার ভাড়া গুনে বিকল্প যানবাহনে ঢাকা ছাড়ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হলেও কিছু অসাধু পরিবহন মালিক সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে বাস চালাচ্ছেন। এর মধ্যে সাহানা পরিবহনের বাস রংপুর-ঢাকা রুটে চলাচলের টিকিট পাওয়া গেছে।

টিকিটের তথ্য অনুযায়ী, নুরননবী ইসলাম রংপুরের কালিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসেছেন গত ১০ এপ্রিল। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি কালিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাদের কাছ থেকে ৯৫০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এই টিকিটে স্বাক্ষর করেছেন কালিগঞ্জ কাউন্টারের মোহাম্মদ হারুন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে মহাসড়কের পুলিশকে ম্যানেজ করে গোপনে দেশের দূরদূরান্ত থেকে কিছু বাস চলাচল করছে। লকডাউনে একদিকে গোপনে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে যাত্রী আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, অসংখ্য যাত্রী মাইক্রো ও প্রাইভেটকারে করে নির্বিঘ্নে ৮০-১০০ কিলোমিটার দূরে পাটুরিয়া ঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছেন। একেকজন যাত্রীর কাছ থেকে চারশ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একটি প্রাইভেটকারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পাঁচ থেকে ছয়জন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মাইক্রোবাসে ছয় থেকে আটজন নেওয়া হচ্ছে। এসব যানবাহনে করে রংপুর, দিনাজপুর, নাটোর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। গতকাল গাবতলীতে পুলিশের সামনে অবৈধভাবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাড়িগুলো চলাচল করতে  দেখা গেছে।

যাত্রী আবুল বাশার জানান, তিনি নাটোরের বনপাড়ায় যাবেন। তার কাছে ভাড়া চাওয়া হয়েছে দেড় হাজার টাকা। তার মতো অনেক যাত্রীই এই ক্রান্তিকালে পরিবহন খাতের অসাধু চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। গাবতলীতে যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করা হচ্ছে, তা থেকে যাত্রী সংগ্রহ করে দেওয়া এক শ্রেণির দালাল প্রতি গাড়িতে তিন-চারশ টাকা করে অবৈধভাবে আদায় করছে। বাকি টাকা থাকছে গাড়ি চালকের কাছে। চালক এই টাকার একটি অংশ গাড়ির মালিককে দিচ্ছেন। প্রভাব খাটিয়ে টার্মিনালগুলো থেকে অবৈধভাবে এসব যানবাহন চলাচলে সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে আড়ালে থাকা গডফাদারদের দিতে হচ্ছে মোট ভাড়ার টাকার একটি পার্সেন্টেজ। এই টাকা না দিলে গাড়ি চালানো যাবে না।

একইভাবে অবৈধভাবে মহাখালী টার্মিনাল থেকে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে যাত্রীরা টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনাসহ ওই অঞ্চলের জেলাগুলোতে যাচ্ছেন। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে একইভাবে কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় যাচ্ছেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন

×