ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

আর কত মৃত্যু দেখবে দেশ

আর কত মৃত্যু দেখবে দেশ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২১ | ১৪:২৯

করোনার থাবায় বিধ্বস্ত দেশবাসী প্রতিদিনই আশায় থাকেন, আজ হয়তো মৃত্যু ও শনাক্ত কমবে। কিন্তু তা আর হচ্ছে না; বরং প্রতিদিনই মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় এ মহামারিতে সংক্রমণ ও প্রাণহানি আগের রেকর্ড ভেঙেছে। এ সময় করোনা কেড়ে নিয়েছে প্রায় আড়াইশ মানুষকে। শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি রোগী। এ পরিস্থিতিতে তাই সবার মনেই শঙ্কা কাজ করছে, এর শেষ কোথায়। আর কত মৃত্যু দেখবে দেশ?
ঈদের বন্ধের কারণে মাঝখানে কয়েক দিন নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় করোনা শনাক্ত কম হচ্ছিল। মৃত্যুও কিছুটা কমে আসছিল। কিন্তু নমুনা পরীক্ষা বাড়তেই উল্টে গেল চিত্র। আগের দিনের তুলনায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ১৩ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো এক দিনে সর্বোচ্চ অর্ধলাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। এতে প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তও পার করল ১৫ হাজারের ঘর। আগের দিনের তুলনায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা চার হাজার বেড়ে ১৫ হাজার ১৯২ জনে পৌঁছেছে। এর আগে গত ১২ জুলাই সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে পৌঁছাল। একই সঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত আরও ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুলাই সর্বোচ্চ ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এ পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত ১৯ হাজার ৫২১ জন প্রাণ হারালেন।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত আরও ১১ হাজার ৫২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। করোনা সংক্রমিত মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে শনাক্তের হার। তবে টানা দু'দিন ধরে শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। রোববার ছিল ৩০ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, শনিবার ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং শুক্রবার শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেশে এখন মোট শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের ৬৩৯টি পরীক্ষাগারে ৫৩ হাজার ৩১৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আর পরীক্ষা করা হয় ৫০ হাজার ৯৫২টি নমুনা। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৫ লাখ ছয় হাজার ২৩৩টি।
সরকারি হিসাবে সর্বশেষ ১০ দিনে নতুন করে ৯৫ হাজার ৯০৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে রোগী পাওয়া গেছে ৯ হাজার ৫৯১ জন। করোনার সংক্রমণে গত ১০ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন দুই হাজার ৫৬ জন। অর্থাৎ এ সময়কালে প্রতিদিন গড়ে ২০৬ জন রোগী মারা গেছেন।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরে পাওয়া গেছে দেশের মোট শনাক্তের ৩৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ রোগী। এ সময়ে আগের দিনের তুলনায় ১০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এই মহানগরে। এ কারণে শনাক্ত রোগীও পাওয়া গেছে আগের দিনের প্রায় দ্বিগুণ। গত এক দিনে মহানগরে ২১ হাজার ৬০৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ছয় হাজার ৪০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে রোববার সাড়ে ১১ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছিল তিন হাজার ৪৫৫ জনের শরীরে। শনাক্তের হার আগের দিনের ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
অন্য দিনগুলোর মতোই সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, সাত হাজার ৯৫৩ জন। নমুনা পরীক্ষা হয়েছে সাড়ে ২৭ হাজার। এর আগের দিন এই বিভাগে চার হাজার ৭৫৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল। এ বিভাগে নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার আগের দিনের ৩১ দশমিক ৭৫ থেকে কমে হয়েছে ২৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারাদেশে শনাক্ত করোনা রোগীর ৫২ দশমিক ৩৫ শতাংশই মিলেছে শুধু ঢাকা বিভাগে। অবশ্য নমুনা পরীক্ষায়ও এগিয়ে আছে এই বিভাগ। সারাদেশের মোট নমুনা পরীক্ষার ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ পরীক্ষাই হয়েছে ঢাকায়। এ বিভাগের মতো অন্য সব বিভাগেই আগের দিনের তুলনায় বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে আগের দিনের এক হাজার ৬৬৭ থেকে বেড়ে দুই হাজার ৪৬৭ জন, খুলনায় এক হাজার ২৭৮ থেকে কমে এক হাজার ১৮৬, রাজশাহীতে এক হাজার ছয় থেকে কমে ৯০৮, বরিশালে ৭৬৭ থেকে বেড়ে ৮৪১, রংপুরে ৯২০ থেকে কমে ৬৭৮, ময়মনসিংহে ৪৫৯ থেকে বেড়ে ৫৯৫ এবং সিলেটে ৪৪০ থেকে বেড়ে ৫৬৪ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে।
সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪২ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরিশাল বিভাগে শনাক্তের হার ৩৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩৭ দশমিক ৬০, ময়মনসিংহে ২৯ দশমিক ৭৬, রংপুরে ২৭ দশমিক ৩৬, খুলনায় ২৬ দশমিক ৩১ এবং রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ হারে রোগী পাওয়া গেছে।
শনাক্তের মতো মৃত্যুতেও শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই বিভাগে ৭২ জন করোনা সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৪৬, রাজশাহীতে ২১, রংপুরে ১৬, সিলেটে ১৪, বরিশালে ১২ ও ময়মনসিংহে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। তাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৫, বেসরকারি হাসপাতালে ৫৫, বাসায় ২৬ এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে একজনকে।
মৃতদের মধ্যে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ১৩৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৫৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দু'জন। মৃতদের মধ্যে ১৪১ পুরুষ ও ১০৬ জন নারী।


আরও পড়ুন

×