ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

ছাড়া পেলেন চয়নিকা চৌধুরী

ছাড়া পেলেন চয়নিকা চৌধুরী

চয়নিকা চৌধুরী- ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২১ | ১২:৪১ | আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২১ | ১২:৫১

সিনেমা ও নাটক নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ১১টার দিকে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চয়নিকাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। নায়িকা পরীমণি তাকে 'মম' বা মা বলে ডাকতেন। পরীমণিকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত চয়নিকার আটকের ব্যাপারে গুঞ্জন ছড়ায়। শুক্রবার দুপুরেও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পরীমণির পৃষ্ঠপোষক এক নারী নজরদারিতে। এরপরই সন্ধ্যায় রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে চয়নিকাকে আটকের তথ্য জানানো হয়। পরে মধ্যরাতে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বনানী থেকে চিত্রনায়িকা পরীমণির কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ করিম জিমিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তার কাছে মাদক পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চয়নিকাকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জিমির কাছে মাদক পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাংলামটরের সোনারগাঁও রোডে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন চয়নিকা। তিনি বের হওয়ার আগেই সেই ভবনের সামনে অবস্থান নেন গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার পর পুলিশ তাকে গাড়ি থামানোর ইশারা দেয়। এরপর তাকে কিছু বলেন পুলিশ সদস্যরা। পরে পুলিশ সদস্যরা তার গাড়িতে ওঠেন। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা জানা যায়। চয়নিকাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আতঙ্কিত হয়ে বলেন, ‘আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। কোনো অপরাধের সঙ্গে আমার সংশ্নিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই।’ তখন ওই গাড়িতে তার ছেলে অনন্য প্রতীকও ছিলেন। তিনি পরে বাসায় চলে যান।

এদিকে আটকের পর চয়নিকাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা শোনা গেলেও প্রথমে তাকে নিয়ে মতিঝিলের দিকে যায় ডিবির দল। পরে তাকে কমলাপুরের দিকে নেওয়ার তথ্য মেলে। সেখান থেকে রাজারবাগের দিকে যায় তাকে বহনকারী গাড়ি। এক পর্যায়ে তাকে অনুসরণরত গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়ি থামিয়ে দেয় পুলিশ।

সম্প্রতি উত্তরার বোট ক্লাবে পরীমণি তাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। এ নিয়ে পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের সময় তার পাশে চয়নিকাকে দেখা যায়। চয়নিকা পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বিশ্বসুন্দরী’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন পরীমণি। তবে বুধবার সন্ধ্যায় বনানীর বাসা থেকে এই নায়িকাকে আটকের পর চয়নিকার কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অবশ্য তিনি বলেছেন, পরীমণির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। তার সঙ্গে কাজভিত্তিক আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চয়নিকার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘ডিঅ্যাক্টিভ’ রয়েছে।

এর আগে ডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, চয়নিকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনে হস্তক্ষেপ ও মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। ডিবি কার্যালয়ে তাকে পরীমণির মুখোমুখি করে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরীমণির পাশাপাশি গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তারকৃত কথিত মডেলদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিজে পার্টি ও মাদকের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব ব্যাপারেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অপরাধ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখাবে ডিবি।

চয়নিকার স্বামী অরুণ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি শুধু সিদ্ধান্ত জানতে চাই। তাকে কেন নিয়ে যাওয়া হলো, সেখানে এখন কী হচ্ছে।’

শুক্রবার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে যান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নায়ক জায়েদ খান। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুই-একজন শিল্পীর জন্য পুরো শিল্পী সমিতির সুনাম ক্ষুণ্ণ হলে সমাজ তা কখনোই মেনে নেবে না। কেউ অপরাধে জড়ালে সেটা তার ব্যক্তিগত দায়।

২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ‘শেষ বেলায়’ নাটক পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালকের খাতায় নাম লেখান চয়নিকা চৌধুরী। এ পর্যন্ত তিনি কয়েকশ’ নাটক ও একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন।

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমণিকে আটক করে র‌্যাব। তার বাসা থেকে নানারকম মাদকদ্রব্য জব্দ করার কথা জানানো হয়। পরদিন তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা করে র‌্যাব। সেদিনই তাকে আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন

×