ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

চবিতে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

চবিতে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগের ২ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

 চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৪:০৩ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৪:৪৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আধিপত্যের দ্বন্দ্বে নিজেদের দুই কর্মীকে কুপিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগের উপপক্ষ বিজয়ের কর্মীরা। এছাড়া মারধর করা হয়েছে আরও দু'জনকে। বুধবার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। মারধরে আহত অপর দুইজনকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক উপপক্ষ বিজয়ের কর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে অধিপত্যের দ্বন্দ্ব চলছে। দীর্ঘদিন এই উপপক্ষটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইলিয়াস ও সাবেক অর্থ-সম্পাদক জাহেদুল আওয়াল। তবে সম্প্রতি বিজয় কর্মী আল-আমীন শেখ ও মোজাহিদ চৌধুরী তাদের নেতৃত্ব থেকে বের হয়ে এসেছে। আলাওল ও এ এফ রহমান হলে অবস্থান নিয়ে তারা আলাদা রাজনীতি করছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মো. ইলিয়াসের অনুসারীরা বুধবার রাতে আলাওল হলে থাকা আল-আমীন শেখ ও মোজাহিদের কর্মীদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। ঘটনা শুনে মোজাহিদ চৌধুরী এগিয়ে এলে তার হাতেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা। এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবার একই হলে কক্ষ দখল নিয়ে দ্বদ্বে জড়ান তারা। মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার আবু তৈয়ব সমকালকে বলেন, রাতে চারজন শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় এসেছিল। তাদের মধ্যে মোজাহিদ চৌধুরী ও জাহিদ নামের দুইজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। এ কারণে তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই দুই জনের মধ্যে একজনের মাথায়, অপরজনের হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।

বিজয় পক্ষের কর্মী আল-আমীন শেখ সমকালকে বলেন, আমরা র্দীর্ঘদিন মো. ইলিয়াসের সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আমরা আর তার সঙ্গে রাজনীতি করতে চাই না। তাই তার অনুসারীরা রাতে আমাদের দুই কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। তাদেরকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে আরও দুইজনকে মারধর করে তারা। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই। পাশাপাশি মামলাও করা হবে।

অন্যদিকে বিজয় পক্ষের নেতা মো. ইলিয়াস বলেন, মোজাহিদ চৌধুরীর বাবা জামায়েতের রাজনীতি করত। সেও ছাত্রলীগের ভেতর অনুপ্রবেশকারী। আমরা জানতে পেরে তাকে প্রতিহত করেছি। মারামারির ঘটনায় অন্য যে ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে আমরা তার চিকিৎসাভার বহন করছি। তিনি আরও বলেন, বিজয় পক্ষের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই। একটি চক্র দীর্ঘদিন ভাঙন ধরানোর চেষ্টায় লিপ্ত আছে।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের আধারে এমন জঘন্য হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূইয়া সমকালকে বলেন, আলাওল হলে একটি ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন

×