ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

'বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে'

'বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে'

ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০২:০১ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০২:০১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকরা বলেছেন, মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশের মত সম্প্রীতির দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বিভিন্ন ঘটনা সৃষ্টি করে যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে এই ঘটনাগুলো কারা ঘটিয়েছে তা চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি দেওয়া এখন জরুরি কাজ। এটি যদি না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতেও নানা সময়ে এই অপশক্তি আমাদের সম্প্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হবে। এদের দ্রুত বিচার করতে হবে যাতে বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে 'সাম্প্রদায়িকতা রুখে দাঁড়াও, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ো' শীর্ষক আয়োজিত এক মানববন্ধনে তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়ার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এছাড়া সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ শিকদার প্রমুখ।

মানববন্ধনে আখতারুজ্জামান বলেন, মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশের মত অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতির দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠে বিভিন্ন ঘটনা সৃষ্টি করে যা আমাদের জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্য ও দুঃখজনক। দুঃখজনক হলেও সত্যি এ ধরনের অপশক্তি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে আমরা যে সম্প্রীতির বন্ধনে আমরা থাকি তা বিনষ্ট করে যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। 

তিনি আরও বলেন, সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনি তদন্ত করে এই ঘটনাগুলো কারা ঘটিয়েছে তা চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি দেওয়া এখন জরুরি কাজ। এটি যদি না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতেও নানা সময়ে নানা সুযোগে এই অপশক্তি আমাদের অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার অপতৎপরতায় লিপ্ত হবে।

শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষই অসাম্প্রদায়িক। গুটিকয়েক মানুষ সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে। এর পেছনে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। এসব সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে এদেশের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, যা কিছু ঘটছে, তা একটি অশনিসঙ্কেত। সর্ষের মধ্যে ভূত রয়েছে। এই সর্ষে হচ্ছে রাজনীতি ও অর্থনীতি। এই ঘটনার পর এখনও কোনো তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি। এখনও সেখানে ধ্বংসস্তুপ রয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যা কিছু হয়েছে, তা যেন আর না ঘটে। এই ঘটনার দ্রুত বিচার করতে হবে, দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যেন বিচারের বাণী নিভৃতে না কাঁদে।

আরও পড়ুন

×